মেন ইন দ্য সান

Written by  ঘাসান কানাফানি, ভূমিকা ও অনুবাদ : মাসুমুল আলম
  • প্রকাশ: ২০১৫
  • আই এস বি এন: 978-984-8856-34-2
  • পৃষ্ঠা: ৮৮
  • বাঁধাই: বোর্ড বাঁধাই
  • মূল্য: ১৫০

বিমূঢ়, হতচেতনকারী মেন ইন দ্য সান এই নভেলাটির মাধ্যমে ফিলিস্তিনি লেখক ঘাসান কানাফানি আরববিশ্বে সর্বাগ্রগণ্য লেখক হিশেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন অনেক আগেই। ভাগ্যান্বেষী, রাষ্ট্রহীন ক’জন ফিলিস্তিনি তাদের স্বদেশবাসী একজনের সহায়তায় একটা নিরাপদ নিশ্চিন্ত জীবনের খোঁজে আগস্ট মাসের ভয়াল সূর্যের নিচে তপ্ত মরুভূমির মধ্যদিয়ে অনিশ্চিত যাত্রা শুরু করে। কিন্তু স্বপ্নভূমিতে পৌঁছানোর আগেই রাত্রির মরুভূমির ভাগাড়ে তাদের জায়গা হয়। দিনের বেলা একটা সীমান্ত ফাঁড়িতে উত্তপ্ত ধাতব ট্যাঙ্কের মধ্যে তাদের নি:শব্দ মর্মন্তুদ মৃত্যু, অথচ জগতের সঙ্গে সম্বন্ধহীন ‘তুচ্ছ’ সেই মৃত্যুর মহত্তম উচ্চারণে, পাঠক, ঘাসান কানাফানির অসাধারণ গদ্যশৈলীতে বিষম বেদনানুভূতিতে আক্রান্ত হন। মেন ইন দ্য সান আরব-মনীষাকেই শুধু ধারণ করেনি, একইসঙ্গে এটা আরব-উপন্যাসের ব্যাপক সংখ্যক সমালোচকেরও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ভাবীকালের আশা-সঞ্চারী ‘নিপীড়িতদের সাহিত্য’ তকমাধারী নয়, বরং অতীত ও বর্তমানের ঘটনা-সংঘটনের মেলবন্ধন, নিস্পৃহ রূঢ় বাস্তবতা মেন ইন দ্য সান-এর আখ্যানভাগকে অধিকতর মর্মস্পর্শী করেছে। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত এই বিখ্যাত নভেলার ওপর ভিত্তি ক’রে দ্য ডিসিভ্ড নামে একটি চলচ্চিত্র ১৯৭২-এ নির্মিত হয়। কানাফানি’র মূল আখ্যানে যেখানে ভাগ্যাহত ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা লোকচক্ষুর অগোচরে মারা যায়, সেখানে ঐ তিনজন কিন্তু ট্যাঙ্কের ধাতব দেয়ালে অবিরত ধাক্কা দিয়ে চলেছে; চলচ্চিত্রের পরিভাষায়, তা হয়তো বাইরের দুনিয়ার সাথে সম্বন্ধ স্থাপনের প্রচেষ্টা।

খ্যাতিমান এই লেখক জন্মগ্রহণ করেন ৯ এপ্রিল, ১৯৩৬ উত্তরাঞ্চলীয় ফিলিস্তিনের অ্যাক্রি নামক স্থানে, অধুনা যা আক্কা নামে পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্যে ১৯৪৮-এ ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হলে ফিলিস্তিন স্বাধীনতা হারায়, আর সেই ভূ-খ- হারানো বিপর্যয়ে লাখো লাখো ফিলিস্তিনির সঙ্গে ঘাসান কানাফানি’র পরিবারও শরণার্থী হয়ে পড়ে। মেন ইন দ্য সান¬ যখন লিখিত হয়, ঐ সময়ে কানাফানি একজন ‘দেশহীন’ মানুষ হিশেবে আর বৈধ কাগজপত্রের অভাবে লেবাননে ‘পলাতক’ জীবন যাপন করেছিলেন।

১৯৬৯ সালে বৈরুত থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘আল-হাদাফ’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন ঘাসান কানাফানি। এছাড়া, ১৯৭০-এ তিনি ‘পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন’-এর প্রধান মুখপাত্র ছিলেন। অতি অল্প বয়সে বিপুল খ্যাতি অর্জনকারী কানাফানি’র উপন্যাস-ছোটোগল্প-নাটক এ পর্যন্ত মোট ষোলোটি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।

১৯৭২ সালের ৮ জুলাই বৈরুতে একটা মার্কেটের সামনে ইসরাইলি এজেন্টরা তাঁর গড়িতে টাইম-বোমার বিস্ফোরণ ঘটালে তিনি নিহত হন।

 
Ulkhar