Home নির্বাচিত লেখা আ মরি, ক্ষুদ্রত্ব । আহমেদ নকীব ।। কবিতা

আ মরি, ক্ষুদ্রত্ব । আহমেদ নকীব ।। কবিতা

আ মরি, ক্ষুদ্রত্ব  ।  আহমেদ নকীব ।। কবিতা
0
0

বই : শুরু থেকে সম্প্রতি / ২০০৯ / উলুখড়।।

 

আমরা যে খুলেছি খেরো খাতা তর্কের

কর্কের ছিপি খুলে যেভাবে করেছি চুলোচুলি ফের,

এসবের পাছে আর গাছে আর নয় কথা আর নয়

লতা হয়ে উঠবার জের!

কে না জানে শুধু ফোটাতে হুল, এপিঠে ওপিঠে

গেঁথে দিতে ছুরিকার ভুল,

দুপুরের কড়া ঘুমটাকে মেরে ধুমাধুম কিল,

পারো কি নরম ও পরম এ সন্ধ্যারে দিয়ে দিতে

আধভাঙা দিল্!

 

আসলে তো আমি জানি না কোনো শব্দের বুনন

খামোকাই করি শুধু হাবভাব, যেন এ্যাব্বড়ো

এক কল্পবিশারদ, আর মোটাসোটা বিজ্ঞজন!

বলি, হাঁটো এ পথে যে পথে টেবুলে উপছে

উঠিবেক তাগড়া কড়ামিঠা নিষ্ঠার বুকখোলা

পাহলোয়ান; আসো, বসো এই বিদ্যার গাড়িতে

আজি চড়ো; তোমরাই হইবেক গোঁফে রাশভারী

শব্দধারী মহা হ্যাট হ্যাট করা কোচোওয়ান।

 

নিজেরে কী করে এতো খাটো করো, ছাঁটো সব

হীনমনা আগাছার বন; ভাবো, তুমিই সব,

হয়ো না আনমনা প্রবচন; একটু ভাবুক হও,

আধটু চৈন্তিক, তিতিক্ষার পরে ত্যাগ নিয়ে

কলমেরে ডেকে বলো তুহু যে আমারই অহং,

আমারই কলিজার করিমন!

 

আহারে ক্যাঠা এলো এই বাগীশি আঙুল

উঁচিয়ে, চাগিয়ে সব মহান আখ্যান, খানখান

করে আমার ক্ষুদ্রত্ব? ও তো বোঝে না মুই যে

নিয়তই ছোটখাটো এক জলজ্যান্ত বাটো, সত্য বলি

বাহাদুর নই কোনো, নই কোনো সদাসত্য বুলবুল।

আর এভাবে তর্কাতর্কি জুড়ি, কুড়ি বার করি কুলকোচা

ওচা হয়ে আছে তার্কিক মহাজনের যতো তুলকালাম খোঁচা;

কালাম এসেছে গাইতে গাইতে গান, দিতেছে স্বাধীন

তাধিন তাধিন শিস — কোনো চিন্তার গুণিতক ছাড়া, হেথা

আর হোথা। তুমি আর আমি খুব দামি গজলের

পিছে ছুটে, আখরে জুড়েছি নিত্যানিত্যের মেদুর কি

একরাশ সুদূরতা;

 

কানে নয়া বারতার ক্রিং ক্রিং ফোন — আমরা তো

সটান শোয়া, আমরার চোখে বৈপ্লবিক জল, আমরার

কোলে সুষামিত গীত কলকল, ঝাঁপ মারি খুব সাবধাসে,

কাঁটার ফোড়ন ছাড়া কী করে পথকে করবার পারি

শুধু সুশোভিত প্রকরণ!

 

সব হাচাই মিছা, ইছামতি নদী নাকি তোমার পাশেই

বয়, বাক্যে এসব থাকে আর কাঁখে কলস থাকে

এভাবে বলে যে, দিশি ছবি দিশি জ্ঞানগম্মি,

অম্নি তো আসে না, না বাসিলে ভালো, না দিলে গুঁতা

না খেলে কলসি ভাঙার গুঁড়া, উড়া তোর বস্ত্র পয়মন্ত,

আদিম আকাক্সক্ষার রশি ধরে টান মারো, ফেলে

বধূরে চিৎপাৎ তোমার উনুনে কি নুনে।

 

আমরা লজ্জিত এই ছাওয়ালের নীতিকথা নিয়ে;

ক্যামন যে খোলামেলা, সমাজ ডিঙিয়ে কথা কয়,

ক্যামন ন্যাংটো স্বভাব ওর, ঘোর কলিকাল, শুধু

পাজামারে পরে উল্টিয়ে;

আমরা চাই ভাই একখণ্ডে সমস্ত তনুরে আগাগোড়া

রাখো ঢেকে।

 

আমারে ডেকো না আর নায়করাজের নামেধামে,

জামের কষ দিয়ে করেছি কালার সব আমজনতার

ভাঙাচোরা মুখ, যদি তারা মুহূর্তকে রঙিলা করিতে

পারে;

হারে কিংবা জ্যান্ত থাকে এতসব সংখ্যা থাকবে না

মনে।

 

ও মনু আছনি ভালা, তালামার্কা মুখ রাখো খোলা,

চাবির গোছার কথা বার বার হারিয়ে ফেলি, আর কার

এ্যাতো মনে থকে; যারা মনোযোগী পিতল কি

লোহার গেট নিয়ে করে কাড়াকাড়ি; আড়িপাতা

কানে দিমুনে একদম খোঁচা ওরে চামচিকা।

 

সেদিন এক ডকতর সাহেবা কবিতাকে বৃষ্টির

কল্পলোকে বহুত গমকে ধরেছেন ঠেসে,

হঠাৎ-ই বলেন হেসে : ইটের মতো রাঙারোদ,

আর সিমেন্টকঠিন বৃষ্টি; আমি তো অবাক, নির্বাক,

তাকিয়ে তাকিয়ে তাহা দেখি; এ কী বলেন বিবিসাব,

হাবভাব বোঝা দায়, কী সব খোয়াব দেখে এসকল ভবিষ্য

সময়ের দেখা পেলেন আপনি? নাকি

কি জানি কি আহার করে আপনার মাথা কে করিলো

শার্পনার দিয়ে চোখা, যে চক্ষু ঠমকে গলার ধমকে

দেখেন, পুরুষসমাজ আগাগোড়া একদম বোকা!

 

আজ হাঁটি আর ভাবি : মুই এক ক্ষুদ্র মনু; যে

অণুপরমাণু ঘেঁটে বিদ্যর সমুদ্র গিলেছি তার কোনো

ফলন কি আন্দোলন নেই এই চৌর্যের মনে; ক্ষণে যদি

দোলা দেয় কোনো নারী, দিয়েছি সটান দৌড় আর

বলেছি পারি না নিতে তেমার গগনবিদারী আবাহনে;

চুপিসারে গিয়েছি ঢুকে আপামর জনতার ভিড়ে;

আর সকলকে বলেছে উচ্চ স্বরে : আহারে আমাগো

কালো মেয়ে তারে ওই ধলা মধ্যবিত্ত পোলা, খাইয়ে

সুস্বাদু কোলা, দিলো যে বিরাট ধাপ্পা —

এই হলো মামা আমরার চিরায়ত দশা, কও আম্মা

গাল দিয়ে বেজন্মা, কারে বলে বিকল্প ভালোবাসা?

 

ওলো হাম্বড়া, দড়া হয়ে ঝুলে আছি তোমাদের

চৌরঙ্গী মোড়ে; গতরে পর্যাপ্ত অধ্যাপক কি হক,

আর ঘূর্ণমান যতো শাবক, স্তাবক যতো ঘিরে ঘিরে

এই বন্দিরে, কাঠি উঁচিয়ে আর আগাগোড়া খুঁচিয়ে

বলে—কী এ্যাতো পড়বার আছে, যদি দেখ জলজ্যান্ত

এই মধ্যবিত্তটিরে?

 

এখনো মহাচিপা আমি, যামিনীকে চাই মহানন্দে,

পারি যদি তাহার গতরে ঢুকে আবছা ছবির মতো

ঝাপসা থেকে যেতে আজীবন, যাহা করে অতিঅতি

মধ্যবিত্তগণ; খানাখন্দে পড়ে বুঝি এ তো নয় সফট্,

তাই তো আমরা ধামরাই যেয়ে বাঁচতে পারি না আর;

ফিরি খোপে, জপে যতো মামণির নাম।

 

কী কাম বলো, এ্যাতো মানবিক সিকিমার্কা মন

নিয়ে কাড়াকাড়ি করে; যাও চলে খুব ভোরে ধরে

হাত-পা নিয়তির; তবু যেতে যেতে হতে পারে

মনটা অধীর?

 

জানি, আর হবে না এভাবে লেখাজোখা, বোকারাই লিখছে যেচে,

কেচে সব শাদা ড্রেস, যদি বলি তোমাকে লাগছে যে ফ্রেশ,

অম্নি সব কলি একেবারে ফোটে; জোটে অগণন ভোমরা,

ঢেকে যায় তোমরার সব সাদাসিধা এড্ড্রেস।

 

অনেক বল্লেন কথা, আমাকে ডুবিয়ে চুবিয়ে আপনার রচনার

রসে আটকা পড়েছি এই পিপীলিকা, কী কারণে ব্যাকরণে

আনেন ক্যানভর্তি আঠালো বাচালতা;

 

কথা কম!

দম নেই আর আমার।

 

যদি বলি দূর হও মূঢ়তার মাথা, তবু থাকে মিশ্র রীতির বাধ্যবাধকতা।