Home নির্বাচিত লেখা এপ্রিলের এক সন্ধ্যা । মাসুমুল আলম ।। গল্প

এপ্রিলের এক সন্ধ্যা । মাসুমুল আলম ।। গল্প

এপ্রিলের এক সন্ধ্যা  ।  মাসুমুল আলম ।। গল্প
0
0

বই: নামপুরুষ ও অন্যান্য /গল্প / ২০১১, উলুখড়।।

 

April is the cruellest month, breeding

Lilacs out of the dead land, mixing

Memory and desire, stirring

Dull roots with spring rain…

—Waste Land, T. S. Eliot

 

এই যে তীব্র তাপদাহ চলছে— তা হবে কয়েক সপ্তাহ;

বাইরে বাঘের মতো রোদ্দুর, একদম তাকানো যায় না। বিকেলে রোদ কিছুটা মরে গেলে যে একটুকুনি হাওয়া বয়, এখন তারও আর হদিস নেই। ফেরারি। ফলে গরম আর গরম, বৃষ্টি হবে কবে, কালবৈশাখী? এদিকে, আমাদের শহরে রাস্তায় রাস্তায় পিচ গলে যাচ্ছে, আমরা হাঁটতে পারি না, পরন্তু ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, পানি সংকট; আমাদের পাড়ার এক বড় ভাই হোন্ডা নিয়ে বেরুনোর পর কিছুক্ষণ বাদে তপ্ত পিচে টায়ার গরম— পেছনের চাকা হঠাৎ বার্স্ট করলে হোন্ডাসহ উল্টে যায় সে, পরে হাসপাতালে। হাসপাতাল থেকে পাড়াতুতো ভাইকে দেখে আমি এখন আমাদের পৌর পার্কটিতে গিয়ে বসি।

দ্যাখো, পার্কের পুকুরটায় টলটল করছে জল…

কয়েকদিন আগে আমাদের বাড়িতে জোড়া জামগাছ কাটতে যে তিন ‘জন’এসেছিল, তাদের মধ্যে একজন, মালঞ্চি থেকে আসা লোকটা বলেছে—‘ঝড়-বৃষ্টি আর কয়দিন না হলিই বরংচ ভালো, এখন মাঠে মাঠে পাকা ধান।’এই লোকটির জমি নেই, তবু সে আশা করছে ‘ঝড়জল না হলি বোরো ধান উঠলি পর চালির দাম কিছু কমবেনে বুইছাও?’

আমি পুকুরের পানিতে নেমে গেলাম। ঘাসের ’পর জামা-প্যান্ট পড়ে আছে, থাক; বহুক্ষণ আমি পানির ভেতর লুঙ্গি ফুলিয়ে বসে থাকব।

আমার আব্বা ন্যায্যমূল্যের দোকানে গেছেন লাইন ধরতে। সস্তায় চাল-ডাল কিনতে হলে কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর তুমি সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি পর্যন্ত চাল পেতে পারো। আমাদের পাড়া তো বটেই, এ্যাতো বড়ো জামগাছ তুমি সারা শহরে খুঁজে পাবে কি-না সন্দেহ; সেই গাছ-বেচা টাকা এখন আব্বার পকেটে। বোম্বাই আর ক্ষুদে জামগাছ দুটো কেটে ফেলা কি ঠিক হয়েছে আব্বার? এ বিষয়ে তিনি কারো সঙ্গে পরামর্শ করলেও শেষপর্যন্ত নিজ সিদ্ধান্তেই অটল। আমার স্কুলের আপারা যদি এখন কালোজাম খেতে চায়, তবে কোত্থেকে দেব? সকালে আব্বা ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই, লেখাপড়ার পাঠ শিকেয় তুলে দিয়ে আর আমার দ্বিতীয় বা সৎমার মনোযোগ বা দৃষ্টি অগ্রাহ্য করে বেরিয়ে পড়েছি। ‘সৎ মা’ বলতে লোকে যা বলে, এই মহিলা কিন্তু সে রকম নন— তিনি অনেক ভালো। আর আমার ‘মা’, প্রথম মা, আমার জন্মদাত্রী মা মারা যাওয়ার পর পর আব্বা দ্বিতীয় দারপরিগ্রহ করেন, ক্যানো? ‘দারা-পুত্র-পরিবার/ তুমি কার কে তোমার?’—মনে পড়ে গেল : (আব্বাকে খুন করতে হবে।)

টাইমফুল কালার ইউনিফর্ম পরা দুটি মেয়ে যাচ্ছে, মানে তারা মধুসূদন তারাপ্রসন্ন বালিকা বিদ্যালয়ের… আমি পানিতে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে নিলাম। মেয়ে দেখতে আমার ভালো লাগে। আমার কোনো বোন নেই। কাউকে বোন ভাবতে পারি না। এবং আমি দুঃখিত। ‘তবু তোমাকে আমার ভালো লাগে।’ বড় হয়ে বকুলকে বলব একদিন। বকুল কে? পরে বলব।

শুনেছি, আমার সর্বাপেক্ষা বয়োজ্যেষ্ঠ ভাই, সে যখন বাড়ি ছেড়ে যায়, তখন ১৯৭৪। সদ্য-স্বাধীন দেশে তখন অর্থনৈতিক কারণ— প্রধানত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ফলাফল হিসেবে হানা দেয় কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ। দুর্ভিক্ষ— মানে তো খাদ্যশস্যের প্রকৃত অভাব; তো সেই সময় আমাদের পাড়ার অনেক ঘরে, মানে যাদের নিছক উপবাস করতে হতো না, তারা কেবল পানিকচু, শাক আর বিভিন্ন রকম আলুসিদ্ধ খেয়ে প্রাণ ধারণ করেছিল। তখন মনে হয় আমার সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ভাই যদি রাজধানী শহর থেকে মাসে মাসে টাকা না পাঠাত তবে কিভাবে চলত আমাদের? যদিও আমার আব্বা আমাদের আরো তিন ভাই আর তার দ্বিতীয় স্ত্রীর জন্য এখনো টিউশনি করেন। আর আমি একা একা পড়ি। সব বাদ দিয়ে কেবল কিশলয়, সবুজপত্র, চয়নিকা… এসব দ্রুতপঠনের গল্পগুলো পড়তে আমার ভালো লাগে বেশি।

পুকুরের মধ্যে আধডোবা হয়ে লুঙ্গি ফুলিয়ে বসে থাকতে থাকতে আমার মনে হলো : আমি তো আব্বাকে খুন করতে চাই। এবং সেটা আজই। আজ উনি টিউশনি করতে যাবেন না। আজকের ভ্যাপসা-গুমোট সন্ধ্যায় উঠানে মাদুর পেতে শুয়ে থাকতে দেখলেই, সেই অবসরে আমি ওনার গলায় ক্ষুরের একটা পোঁচ দিয়ে দেব, ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটবে… কিন্তু আব্বার পাণ্ডুলিপিগুলোর কী হবে? যা হবে তা হবে, আপাতত থাক্। আমার দ্বিতীয় মা যখন কুলোয় করে চাল বাছেন তখন চালের মধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি কেড়িপোকা দেখেছি, এই ভাত খেতে পারো তুমি? আব্বাকে লেখা কবি জসীম উদ্দীনের চিঠি খুঁজে পেতে, কয়েকদিন আগে তিনি ‘কবিরত্ন আমার কুশল জানিবেন…’ ভরাট গলায় দ্বিতীয় মাকে পড়ে শোনাচ্ছিলেন। আমি বড় হ’তে হ’তে হলদেটে জীর্ণ পাতার ঐ চিঠির কোনো অস্তিত্ব আদৌ থাকবে ব’লে মনে হয় না। জামগাছশূন্য বিশাল উঠান এখন সারাদিন ধরেই রোদে পুড়ে তেতে থাকে। বিকেলে পানি ছিটিয়ে ছিটিয়ে উঠানের ধুলো মারা হয়। কবে নামবে বৃষ্টি? আমার দ্বিতীয় মা বলেন। পার্কের পুকুরে জলে ডোবা হয়ে সিসা-রং নির্মেঘ আকাশের দিকে তাকাই একবার : আমার ফুপু, যিনি শহর-ঘেঁষা পার্শ্ববর্তী গ্রামে থাকেন, বলেন, ‘দেকিস্ কেনে ঢক নামলি পর শরীল জুড়োবেনে।’

‘ঢক মানে কী?’

‘বৃষ্টি।’

‘কায়ো?’

‘কাক। কাউয়া থেকে কায়ো, বুইছিস?’

যেদিন আমাদের ‘মা’ মারা যান, সেদিন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি। দাফন শেষ করার পর বৃষ্টির তোড় আরো বাড়ে, ঐদিন সারাদিন সারারাত, পরদিনও সারাদিন সারারাত— এভাবে টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে আমাদের শহর তলিয়ে যায়। সেই আমাদের কত পুরুষ আগে থেকেই মৃত, সেই বুড়ি ভৈরবেও সেবার যেন পানির তোড়ে বান ডাকে। খুশিতে-আহ্লাদে আমাদের পাড়ার ছোট মনি-বড় মনি যমজ দুই ভাই কলার ভেলা নিয়ে গিয়ে বানের জলে ডুবে মরে। ফলে, ডুবুরিরা আসে এবং সঙ্গে সঙ্গে আর্মিরাও। আর্মিদের দেখে আমাদের ভয় লাগে, আমরা ছোটরা সরে যাই। আমাদের পাড়াতো ভাইরা চায়ের দোকানে অব্দি দাঁড়াল না আর।

সেই একটানা পাঁচ দিনের অতি বৃষ্টিজনিত বন্যার পর থেকে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে। তারপর বাড়তে থাকে। এবং বাড়তেই থাকে। বিডিআর তখন ন্যায্যমূল্যের দোকান খুলে বসে। দোকানের সংখ্যা বাড়ে। জনগণের লাইনও বাড়ে। আমাদের ক্ষুধা বেড়ে যায়। আর আমি এখন সর্বদাই ক্ষুৎকাতর… পুলিশ আর সেনাসদস্যদের তত্ত্বাবধানে প্রচার বিভাগের গাড়ি এসে মাইকে শ্লোগান দিয়ে যায়, যার মধ্যে নিহিত থাকে ‘অভয়’; ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’-এর পর ‘নার্গিস’তারপর ‘অভয়’, তারপর… আবহাওয়াবিদরা এরকম অনেকগুলো ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে। ২০০৭-এ ‘সিডর’এসে লণ্ডভণ্ড করে দেয়ার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম আরো কয়েক দফা বাড়ে। ভাগ্যিস, আমার আব্বা দুটি অভিজাত টিউশনি করেন। সরকার ও বিরোধী শিবিরে থাকা দুজন সাংসদই আব্বার ছাত্র ছিল। তিনি এখন তাদের ছেলেমেয়ে পড়ান।

আব্বা মাঝে-মধ্যে টিউশনি বাড়ি থেকে রাত্রে খেয়েদেয়ে ফেরেন। ‘কী খেয়েছ’ দ্বিতীয় মা জানতে চাইলে আব্বা মুখ বুজে থাকেন। কিন্তু টেবিলে সারি সারি খাদ্যের পশরা কল্পনা ক’রে আমার ক্ষুধা তীব্রতর হয়… যেহেতু লাগাতার লোডশেডিং, সুতরাং অন্ধকারে আব্বাহুজুরের দিকে তাকিয়ে আমার চোখে কী যেন তীব্র খচ্ খচ্ ক’রে ওঠে।

আজ তবে শেষ দিন পিতা,

আজ-ই;

এবং আজ আমি ‘হ্যামলেট’। হ্যামলেট তো খুন করেছিল মা-কে, নয়? আমার আব্বার সংগ্রহে অনেক বই। পাঠ্যবইয়ের নিচে রেখে পড়েছি ‘পল্লীসমাজ’, ‘অরক্ষণীয়া’…শরৎচন্দ্রের পল্লীসমাজ-এ প্রেমের ঘটনা আছে; রমেশ প্লাস রমা, যতদূর মনে পড়ে; হ্যামলেটেও প্রেম আছে, নয়? কয়েক মাস আগে দেখেছি, যখন দিনগুলো এখনকার মতো ছিল না, আব্বা, কে-এক রুশ বরিস পাস্টারনাকের ‘ডক্টর জিভাগো’নাকের ডগায় ধরে পড়তে পড়তে বাইরের বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়েছেন।

পুকুর থেকে উঠে পড়লাম। গা-টা জুড়িয়ে গেছে। ঝিরিঝিরি বাতাস লাগছে শরীরে। লুঙ্গি-গামছা খুলে প্যান্ট-শার্ট পরলাম। এখন বাড়ির দিকে যাব। পার্কের বাইরে, পিচ রাস্তায় হামলে-পড়া রোদ, যেতে-যেতে ঘেমে-নেয়ে যাব আবার। তবু বাড়ি যেতে হবে। কিছু একটা খেতে হবে। তারপর, তারপর নিজেকে বিপুল পারঙ্গম করে তুলতে হবে, আসন্ন সন্ধ্যার জন্য।

বাড়ির কাছাকাছি গিয়ে দেখি, বকুল-বীথি কাঠফাটা রোদ মাথায় নিয়ে যাচ্ছে গান গাইতে গাইতে। পৌর চেয়ারম্যানের ইচিং বিচিং ঝাপিয়ে ঝিনা-খেলা দুই কন্যা। বকুল বড়, তার আয়ত চোখে আমাদের মেটেপুকুরের ঠাণ্ডা জল। বকুল-বীথির কি খিদে পায়? বড় লোকদের ক্ষুৎপিপাসা না-কি কম? হতেও পারে। বকুল-বীথির আব্বা এখন জেলে। সেবার আমাদের শহর আর আমাদের দেশের অনেক বড় বড় লোক, অনেক মেজ মেজ আর অনেক সেজ সেজ লোক, আতিপাতি নেতা-শ্রেণির অনেক লোক জেলখানায় যায়। জেলখানা ভরে ওঠে। ভিআইপি বন্দিরা সেখানে ‘ডিভিশন’পায়; ফার্স্ট ডিভিশন, সেকেন্ড ডিভিশন… এই সব?

‘ব-কু-ল।’

আমি ডাকি। বকুল-বীথি দাঁড়ায় এক মুহূর্ত। তারপর ছড়া কাটতে-কাটতে ফের দৌড় : ‘আমরা ভাই গরিব মানুষ ফড়িঙ ধরে খাই/ ফড়িঙের ল্যাজ ধরে মক্কা শরীফ যাই।’তখন আমি খুবই ছোট, শোনা কথা, এর আগে একবার, মানে, এরশাদের সময় বকুল-বীথির আব্বাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল আর্মিরা। তারপর অজ্ঞাতবাস থেকে ফিরে বহুদিন পর্যন্ত পৌর চেয়ারম্যান চারপেয়ে জন্তুর মতো হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটতেন। তো, যা বলেছি তাই, বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছতেই গরমে ঘেমে নেয়ে আমি একসা।

কিন্তু দরজা এই অসময়ে বন্ধ ক্যানো? সৎ মা, মানে আমার দ্বিতীয়-মা কি তবে গোসল করার পর শাড়িকাপড় পাল্টায়? আমি বাইরে অপেক্ষা করি। নতুন ধান উঠলে চালের দাম কমে যাবে। আমার আর আমাদের ক্ষুধার কষ্ট লাঘব হবে। ততদিন একটু অপেক্ষা করতে হবে, না? দরজার এপাশে আমি অপেক্ষা করি।

আব্বা কোথায়?

আমার ‘মা’তখন বেঁচে; আমি রাত্রে চোখ বন্ধ করে শুয়েছিলাম, আব্বা একবার আমার মায়ের ওপর ‘শয়তান মাগী’ বলে তর্জন করে উঠেছিলেন, আমার মনে আছে; আব্বাকে আমি সেদিন-ই খুন করতে চেয়েছিলাম। মনে মনে যত অশ্রাব্য গালি দিয়েছিলাম।

দ্যাখো তো এ্যাতোক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি। তবু যদি খোলে… দরজায় কান পাতি, বাতাস নাকি শ্বাসপ্রশ্বাসের গভীর শব্দ! বাইরের উঠোনে ঠা-ঠা রোদ্দুর, তাকালে চোখ পুড়ে যায়। আবার কান পাতি। জাপ্টাজাপ্টির শব্দ। ঘূর্ণি বাতাস এগিয়ে আসছে এদিকে… রক্তাল্পতায় ভোগা আমার রোগা শরীর হঠাৎ যেন তেতে ওঠে; নারী-পুরুষের এই সব ‘রঙ্গ’ আমি তুচ্ছ ঘোষণা করে দরজায় দুম্ দুম্ আঘাত করি : ‘দরজা খোল্ হারামি, মনে রাখিস আজি তোর শেষ দিন।’— বলে আমি এক দৌড়ে পালিয়ে যেতে-যেতে পেছনে দড়াম্ করে হুড়কো খোলার শব্দ পাই।

তারপর, সেই আগত সন্ধ্যায়, বাবুঘাট বাজারসংলগ্ন মৃত ভৈরবের উপর কাঠের সাঁকোয় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখি পশ্চিম প্রবাহিনী নদী বরাবর লোহার ব্রিজ দিয়ে ‘কী যেন বোঝাই’ট্রাক চলে যায়। পেছনে, নিরাপত্তা দিয়ে সাথে সাথে চলেছে কতকলো ছায়া-ছায়া গাড়ি…

আর বহু দূর থেকে দেখা যায়, নদীতীরবর্তী পূব-দক্ষিণ কোণের ইটখোলার সুউচ্চ চিমনি থেকে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের সন্ধ্যার শহরের এক চিলতে আকাশে…