Home নির্বাচিত লেখা কবি লিন্ডা মারিয়া বারোসের সাক্ষাৎকার । সুহৃদ শহীদুল্লাহ ।। সাক্ষাৎকার

কবি লিন্ডা মারিয়া বারোসের সাক্ষাৎকার । সুহৃদ শহীদুল্লাহ ।। সাক্ষাৎকার

কবি লিন্ডা মারিয়া বারোসের সাক্ষাৎকার  । সুহৃদ শহীদুল্লাহ ।। সাক্ষাৎকার
0
0

বই: রেজর ব্লেডে তৈরি বাড়ি – লিন্ডা মারিয়া বারোস / অনুবাদ ও সাক্ষাৎকার : সুহৃদ শহীদুল্লাহ / কবিতা ও সাক্ষাৎকার গ্রন্থ / উলুখড়, ২০১৭।।

 

খোলসছাড়ানো এক মিথ!

কবি লিন্ডা মারিয়া বারোসের সাথে আলাপ / সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সুহৃদ শহীদুল্লাহ ।।

আমার ইচ্ছা ছিল লিন্ডার মুখোমুখি বসে সাক্ষাৎকারটি নেবার। ২০১৬ সালে প্যারিস ফরাসি-ইংরেজি কবিতা উৎসবে আমন্ত্রণ পেয়ে আমি ফ্রান্সে গেলে সে-সুযোগও বিনা খরচে এসেছিল আমাদের কাছে। আমরা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দিনের বেশিরভাগ সময় একসাথে কাটালাম তখন। রাতেরও। লা ট্রাডেকটুয়ারের স্টল সামলানো থেকে উৎসবের বিভিন্ন ইভেন্ট একসাথে আয়োজন করার পরও আমরা বেশ সময় করে নিয়েছিলাম বিভিন্ন ক্যাফেতে একান্ত আড্ডার। কিন্তু সরাসরি সাক্ষাৎকারের কথা তুললে তখনও রাজি হয়নি লিন্ডা। রাজি না হওয়ার কারণ কবিতা নিয়ে ওর অস্বাভাবিক রকমের সিরিয়াসনেস এবং পেশাদারিত্ব। লিন্ডার ধারণা, আমি অবশ্য দ্বিমত পোষণ করি, ওর ইংরেজি এত ভালো নয় যে কবিতা নিয়ে ও যা বলতে চায় তা তাৎক্ষণিকভাবে ইংরেজিতে আমাকে সম্পূর্ণভাবে বলতে পারবে। ওর পরামর্শ ছিল, আমি ওকে লিখিত প্রশ্ন পাঠালে সেগুলো সে প্রথমে ফরাসি ভাষায় উত্তর লিখবে তারপর ইংরেজি করবে এবং প্রয়োজনে সে-ইংরেজি কোনো ‘ভালো-ইংরেজি’  জানা বন্ধুকে দিয়ে দেখিয়ে নিয়ে আমাকে পাঠাবে। পরে সেইমতো এগিয়েছে কাজ। ওর লিখিত উত্তর পাবার পর কয়েকটি সম্পূরক প্রশ্নও করতে হয়েছে। কিন্তু লিখিত সাক্ষাৎকারের একটি সীমাবদ্ধতা তো থাকেই। এখানেও সেটা থেকে গেল বলেই মনে হয় আমার। আরেকটি সীমাবদ্ধতা থাকল আমার মনে মনে। বইয়ের আকারের কথা ভেবে সাক্ষাৎকারের দৈর্ঘ্য সীমিত রাখতে হল। ভবিষ্যতে লিন্ডার কবিতা নিয়ে আরো কাজ করার আগ্রহ আছে আমার। সেরকম একটি পরিকল্পনা আমরা ইতোমধ্যে আলোচনাও করেছি। তখন আশা করি এসকল সীমাবদ্ধতা কাটানো যাবে।

 

সুহৃদ শহীদুল্লাহ  :  সাক্ষাৎকারের শুরুতেই, তোমাকে অভিনন্দন জানাতে চাই, লিন্ডা। ‘রেজর ব্লেডে তৈরি বাড়ি’  প্রকাশনার দশ বছর পূর্তি হতে চলেছে। প্রকাশনার পর চালর্স ডোবজিনস্কি এই বইয়ের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আজকের ফরাসি কবিতার জন্য এটি একটি ঘটনা’।  কিভাবে এই  ‘ঘটনা’ তোমার কবিজীবনকে প্রভাবিত করেছে? এই বইয়ের সঙ্গে তোমার দশ বছরের ভ্রমণকে আজ পিছন ফিরে কিভাবে দ্যাখো?

লিন্ডা মারিয়া বারোস  :  প্রকাশের এক বছর পরই বইটি এপোলিনের পুরস্কার পায়। ফ্রান্স এবং ফরাসি-ভাষী অন্যান্য অঞ্চলে কবিতার জন্য এই পুরস্কার সবচেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ। Goncount of poetry (গোঁকু পুরস্কার দেয়া হয় ফরাসি ভাষায় ‘সেরা’ ও সবচেয়ে ‘ইমাজিনেটিভ’ গদ্যের জন্য। কথাসাহিত্যের জন্য ফ্রান্সে সবচেয়ে বড় সম্মান ধরা হয় এটিকে। অবশ্য ২০১৬ সাল থেকে কবিতার জন্য এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। ব্যাখ্যা – সু.শ) হিসেবে খ্যাত এই পুরস্কার সাহিত্যের যেকোনো বিষয়ের জন্য একটি গভীর প্রভাব তৈরি করে। তবে তা শুধু এজন্য নয় যে, এই পুরস্কার বিজয়ীকে একজন কবি হিসেবে বহুল কাঙ্ক্ষিত নিশ্চিত স্বীকৃতি দেয়, পাশাপাশি এই ঘটনা তাকে এক চমৎকার অ্যাডভেঞ্চারে টেনে আনে। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের পরের বছরে আমি ১৫ টি উৎসবে আমন্ত্রিত হয়েছিলাম আর কবিতা পড়ার জন্য ডাক পেয়েছিলাম অসংখ্য জায়গা থেকে। সব আমন্ত্রণ আমি রক্ষাও করতে পারিনি…।

দশ বছর পর আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে, সেই অ্যাডভেঞ্চার জারি আছে এখনো। উৎসবে যোগদান, কবিতা উপস্থাপনাসহ অন্যান্য কাব্যিক প্রকল্পের সংখ্যা বাড়তেই আছে আর বইটি ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ৫টি বিদেশি ভাষায়। ২০১৭ সালে প্রকাশিত হবে আরো ৬টি ভাষায়।

এই যে বললাম অ্যাডভেঞ্চার জারি আছে এখনো, আসলে সেই অ্যাডভেঞ্চার তার ডালপালাও ছড়িয়েছে অনেকদিকে। ২০১১ সালে আমাকে প্রস্তাব দেয়া হয় এপোলিনের পুরস্কার প্রদান কমিটিতে জুরি হিসেবে যোগ দেয়ার। এখন আমি তার সাধারণ সম্পাদকের পদ সামলাচ্ছি।

সুহৃদ  :  খুব ছোটবেলা থেকেই তুমি সাহিত্যে সক্রিয় ছিলে। শুরুর ব্যাপারটা যদি বলো একটু।

লিন্ডা  :  কাহিনীর শুরু ১৯৮৮ সালের এক সকালে। সে-সকালে আমার কিন্ডারগার্টেনে যাওয়ার কথা। না বলে থাকতে পারছি না যে, কিন্ডারগার্টেনটাকে খুব অপছন্দ করতাম আমি। ওখানে আমাদের দেশ ও জাতির বাপ-মাদের নিয়ে লেখা অতিশয় মিষ্টি মিষ্টি সব কবিতা মুখস্থ করতে হতো আর টুকরো টুকরো সব রঙিন কাগজ আঠা দিয়ে জোড়া লাগাতে হতো। আমার যেহেতু কোনো কাঁচি ছিল না আর কবিতাগুলো মুখস্থ করতেও চাইতাম না, তাই প্রায়শই বলতাম যে, আমাদের সুন্দর এই কমিউনিস্ট দেশের একজন খারাপ নাগরিক হব আমি…। এমনই ঘটনাক্রমে সেই সকালে আমি চেঁচিয়ে বলেছিলাম, কিন্ডারগার্টেনে যাওয়ার বদলে আমি বরং A বর্ণটি পোশাক করে পরে নেব। কোনোকিছু না জেনেই… সেসময়ে আমি র‌্যাঁবোর লাইনের লোক ছিলাম বলা যায়…। আর আমার প্রথম প্রকাশিত কবিতার শিরোনামও ছিল : A বর্ণটি আমি পোশাক করে পরে নেব।

সুহৃদ  :  এখন পিছনে তাকালে নিজের শৈল্পিক যাত্রায় তুমি কি বড়ো কোনো বাঁক দেখতে পাও?

লিন্ডা  :  আমার প্রথম কবিতা যখন প্রকাশিত হয় তখন আমার বয়স সাত বছর। এখন আমার ছয়টি কবিতার বই, দু’টি নাটক, দু’টি সমালোচনার বই আছে। আর সমান্তরালে আমি অনুবাদ করে গেছি; অনুবাদ বইয়ের সংখ্যা ত্রিশ। অসাধারণ এক যাত্রা ছিল এটি। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, প্রতিটি কবিতার বইয়ে আমি কবিতার নতুন ফর্মুলা প্রস্তাব করেছি; একটি বই থেকে পরের বইটি আরো বেশি নতুনত্বপ্রয়াসী এবং অভিঘাত সৃষ্টিকারী।

সুহৃদ  :  বয়ঃসন্ধিতে তুমি জন্মভূমি ছেড়ে এসেছিলে। বুখারেস্টের মতো একটি সাধারণ শহর থেকে এসেছিলে প্যারিসের মতো এক কসমোপলিটনে। রূপান্তরের কোন ধরনের প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তোমাকে যেতে হয়েছে? একজন তরুণ কবি হিসেবে বেড়ে উঠতে এই প্রক্রিয়া থেকে তুমি কী কী গ্রহণ করেছ?

লিন্ডা  :  সরবোনে পড়ার সুযোগ দেয়া এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়েই তুলনামূলক সাহিত্যে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করার সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি, প্যারিস আমাকে আরেকটি বিষয় দিয়েছে আর তা হল আমার সৃষ্টিশীল কাজে দুই ভাষার অধিকার। তেরো বছর আগে আমি বুঝতে পারি যে, জন্মের সময় কেউই ললাটলিখনের মতো একটি ভাষা তার কপালে সেঁটে নিয়ে আসে না। ঠিক সেই মুহূর্তে আমি ফরাসিতে  “চিহ্ন ও ছায়ার অভিধান”এবং “রেজর ব্লেডে তৈরি বাড়ি” লিখতে শুরু করি।

সুহৃদ  :  এই প্রশ্নটি অন্যভাবে করতে চাই তোমাকে। প্যারিসে ২০১২ সালে আমাদের সরাসরি প্রথম আলাপের সময় একটি বিষয়ে কথা বলে তুমি আমাকে যুগপৎ বিস্মিত এবং বিপন্ন করেছিলে। তুমি বলেছিলে, রুমানিয়ায় এখনো অনেক গ্রাম আছে যেগুলো দেখলে তোমার মনে হবে সেগুলো আক্ষরিক অর্থেই মধ্যযুগীয়। তোমার একটি কবিতা থেকে যদি উদ্ধৃতি দিই,  ‘যে-দেশ থেকে এসেছি আমি সেদেশে আইন বানায় একচক্ষু লোক’। এই পঙ্ক্তির ভেতর আমি আমার দেশকেও খুঁজে পাই। একইরকম স্বৈরাচারিতা, দারিদ্র্য আর আইনহীনতার ইতিহাস আমরা শেয়ার করি। তুমি এখন প্যারিসে এবং প্রথমবিশ্বের কবিতার তথাকথিত মূলধারার কেন্দ্রে রয়েছ। তোমার সৃজনপ্রক্রিয়ায় রুমানিয়ান পটভূমি কিভাবে কাজ করে?

লিন্ডা  :  আমার কবিতায় তুমি রুমানিয়ার রেফারেন্স দু’একটি  পেলেও পেতে পার তবে তা খুব এনেকডোটাল। যাইহোক, এই বইটি যেহেতু মেটাকবিতার বই, সেজন্য কবিতাগুলো নির্দিষ্ট করে কোনো পটভূমির ভূমিকা বহন করে না। আমার দৃষ্টিতে, একজন কবি একজন বাইকার  (মোটরসাইকেল চালক) যিনি A 4 হাইওয়ে দিয়ে রুদ্ধশ্বাসে তাঁর বাইক ছোটান। এই A 4 হাইওয়ে হচ্ছে আসলে A 4 সাইজ কাগজের পৃষ্ঠা। সেটাই তাঁর জগৎ।

সুহৃদ  :  আমরা জানি যে, এই বইটি তোমার পরিকল্পিত পেন্টালজির দ্বিতীয় বই। ফরাসিতে কবিতা লেখা শুরু করেই তুমি ঠিক করেছিলে যে এই পেন্টালজি লিখবে। এই পেন্টালজি দিয়ে তুমি পৃথিবীকে সম্পূর্ণ নতুন একটি মিথোলজি দিতে চেয়েছিলে।

লিন্ডা  :  ২০০৩ সালে, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, গভীরভাবে আইকোনোক্লাস্টিক এক কাব্যিক পেন্টালজি লিখব আমি- পাঁচটি বইয়ের একটি সিরিজ যা পৃথিবীর জন্য একটি নতুন মিথোলজি প্রস্তাব করবে। খোলস-ছাড়ানো এক মিথোলজি।

প্রথম বইটি ছিল, ‘চিহ্ন ও ছায়ার অভিধান’যা পোয়েট্রি কলিং পুরস্কার পেয়েছিল ২০০৪ সালে। এই বইটি মিথ এবং মেটাকবিতা- উভয়দিক থেকে বিগ-ব্যাঙকে উসকে দিয়েছিল। ‘রেজর ব্লেডে তৈরি বাড়ি’দিয়ে আমি মহাজগৎ থেকে ক্ষুদ্রাণুজগতে সরে এলাম যেখানে অন্তর্গত স্পেস এবং গভীরতর আত্মতা মিলে-মিশে যায়। তৃতীয় বই ‘হাইওয়ে A 4 এবং অন্যান্য কবিতা’পথের মোটিফকে আবার মিলিয়ে দিল। এ শুধু মহাজগতের সাথে ক্ষুদ্রাণুজগতের সেতুবন্ধন বা বহির্বিশ্বের সাথে অন্তঃবিশ্বের যোগ নয় বরং হাজারো পথের এক ধাঁধাঁ- ল্যাবিরিন্থ। যাইহোক, একটু আগে যেমনটি বলছিলাম, ‘হাইওয়ে A 4 যা আসলে একটি কাগজের পৃষ্ঠা তার উপর দিয়ে বাইকার-কবি বাইক হাঁকিয়ে যান যাতে তিনি চেরাই মেশিন দিয়ে দিগন্তকে ফালা ফালা করে যেতে পারেন। চতুর্থ বই, ‘হাড়হীন সাঁতারু, মেট্রোপলিটন উপকথা’মূলত তুলে ধরছে শহরের টাচস্ক্রিন বাস্তবতাকে; এই বাস্তবতা মহাজগতের সাথে মানুষের সম্মিলনের একটি প্রধান উপাদান। আর সবশেষ বইটি এই পাঁচটি বইয়ের প্রধান চরিত্রদের মনস্তাত্ত্বিক এবং শারীরিক আন্ডারগ্রাউন্ডে অনুসন্ধান চালাতে চাইবে।

অন্যকথায়, এই পেন্টালজি চেষ্টা করছে মানিবক ক্ষুদ্রাণুজগৎ- শরীর, বাড়ি, শহর- এর সাথে মহাজগৎকে মিলিয়ে দেবার। এসব কবিতা সবই মানবিক স্তরের, অবশ্য মানুষ যতক্ষণ কসমিক স্তরে থাকছে ততক্ষণ।

সুহৃদ  :  এই বইয়ে সে-অর্থে একটিই প্রেমের কবিতা আছে। ‘শব্দের প্রধান ভাণ্ডার’। এমনকি এই কবিতাতেও তুমি বেশ সহিংস ইমেজের ব্যবহার করেছ। তোমার কবিতায় প্রেমের ভূমিকা কী?

লিন্ডা  :  যখন তুমি শব্দকে বাঁধো আর খুলে দাও আর ইমেজকে কাটতে থাকো ফালা ফালা করে যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের নতুন নতুন চেহারা দেয়া যায়, যাতে ওগুলোর ভেতরে তুমি সম্পূর্ণ নতুন অন্তর্দর্শন দিতে পার তখন গোটা ব্যাপারটাই ঘটে থাকে প্রেম থেকে। ভাষার প্রেম, সাহিত্যের প্রেম।

সুহৃদ  :  আমার সীমিত পাঠে তোমার কবিতাকে তোমার ইউরোপীয় সমসাময়িক কবিদের কবিতা থেকে অনেকটা ভিন্ন মনে হয়। তোমার কবিতা সহিংস সব ইমেজে পূর্ণ, মাঝে মাঝে মনে হয় অবাস্তব কিন্তু পাঠক হিসেবে আমি তাতে সংযুক্ত হতে পারছি। একজন সমালোচক বলেছিলেন, তুমি ইমেজকে ব্যবহার করো AK 47-এর মতো। তোমার পাঠক এবং পৃথিবীর সাথে ইন্টারএক্ট করতে ইমেজ তোমার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

লিন্ডা  :  গুরুত্বটা কখনোই কবিতার এনেকডোটাল ডাইমেনশনে নয়। ওদের মেটাফরিক এবং মেটাপোয়েটিক মাত্রিকতা এবং শক্তি সবসময় আছে। অঁরি মিশো একবার বলেছিলেন, ‘অন্যরা পছন্দ করেন আত্মগত স্বগত সংলাপ। আমি, আমি তা পছন্দ করি না। আমি পছন্দ করি কোপানো।’আমি মনে করি তিনি সম্পূর্ণ সঠিক ছিলেন। প্রথানুগত প্রত্যাহারের চেয়ে একজন বাইকার কবি বেশি পছন্দ করবেন স্টেরিওটাইপগুলোকে গুঁড়িয়ে দিতে, সাধারণ পথকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে যাতে কাব্যিক শব্দভাণ্ডার এবং ইমেজকে পুনঃনবায়ন করা যায়।

একই সময়ে বলা দরকার যে, আমার কবিতারা হাইপার-রিয়েলিস্টিক। কিন্তু হাইপার রিয়েলিজমকে শুধু অলংকারিক অনুষঙ্গ দিয়েই প্রদর্শন করা যায়।

সুহৃদ  :  তুমি তো অনেক ঘুরে বেড়াও। আমার জানামতে বিশ্বের মোটামুটি প্রায় সব প্রধান কবিতা উৎসবে তুমি যোগ দিয়েছ এবং এখনো নিয়মিত দিচ্ছ। পৃথিবীর নানা প্রান্তের কবিদের সাথে তোমার কথাবার্তা থেকে তোমার উপলব্ধি কী? বর্তমানে পৃথিবীতে কবিতার কোনো প্রধান ধারা তোমার চোখে পড়ে কী?

লিন্ডা  :  বিভিন্ন উৎসবে গিয়ে ভালো খারাপ মিলিয়ে অনেক কবির সাথেই দেখা হয় আমার। ভালো কবিগণ আমার জন্য নতুন পার্সপেক্টিভ খুলে দিয়েছেন আর খারাপ কবিগণ শিখিয়েছেন লিখতে এসে কী কী করতে নেই। বর্তমানে বেশকিছু প্রধান ধারা আছে কবিতার। যেমন, নিউ লিরিসিজম, মিনিমালিজম, এক্সপেরিমেন্টালিজম, কোটিডিয়ান ন্যারেটিভ পোয়েট্রি, নিউ এক্সপ্রেশনিজম প্রভৃতি। একজন গবেষক হিসেবে আমাকে এইসব সাহিত্য আন্দোলন নিয়ে কিছু কিছু পড়তে হয়। কিন্তু একজন কবি এবং অনুবাদক হিসেবে আমি কেবল অরিজিনাল ব্র্যান্ডেই আগ্রহী।

সুহৃদ  :  তুমি একজন অসাধারণ এবং পরিশ্রমী অনুবাদক। প্রবাদপ্রতিম সেই ধারণা ‘লস্ট ইন ট্রান্সশ্লেশন’থেকে তোমার কাছে কী কী ‘ফাউন্ড ইন ট্রান্সশ্লেশন’বলে মনে হয়?

লিন্ডা  :  আমার কাছে অনুবাদকে আরেক ধরনের A 4 Highway বলে মনে হয় যা দূরত্বকে ঘুচিয়ে দেয় আর অজ্ঞতার বিরুদ্ধে লড়াই করে।  আজকে আমাদের মতো মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে যারা বিশ্বাস করেন যে শীঘ্রই অনুবাদ মানবতার নতুন ভাষা হতে চলেছে। এই চিন্তা থেকেই আমি ত্রিশটি বই অনুবাদ করেছি এবং অনূদিত কবিতা দিয়ে দশটি বড়ো ক্রোড়পত্র করেছি। আর এজন্যই আমি লা ট্রাডুকটেয়ারে সম্পাদনা করছি। নামের মতোই এই ম্যাগাজিন অনুবাদের জন্য বিশেষায়িত।

সুহৃদ  :  প্যারিসে আমাদের কথা-বার্তার সময় তুমি তরুণ কবিদের কিভাবে প্রমোট করা যায় তা নিয়ে প্রায়শই কথা বলতে। এজন্য নিজেকে প্রকাশকের ভূমিকায় দেখার পরিকল্পনাও তোমার আছে। নিজে একজন তরুণ কবি হয়ে তুমি এই দায় অনুভব করো কেন? এ ব্যাপারে তোমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

লিন্ডা  :  আমি সবসময় বিশ্বাস করে এসেছি যে, তরুণ কবির কমান্ডো সাহিত্যে নতুন মুখ তৈরিতে সক্ষম হবে যাতে তারা বন্ধ্যাত্ব, পূর্ব-সংস্কার আর সাধারণীকরণের কাল্টের বিরুদ্ধে লড়তে পারে। সেজন্যই ২০১৭ সাল থেকে আমি নতুন এক অ্যাডভেঞ্চারে নামতে যাচ্ছি। এবছর মার্চ মাসে প্রকাশক হিসেবে প্রথম বই প্রকাশ করতে যাচ্ছি আমি। বইগুলো প্রকাশিত হবে ফ্রান্সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব “কবিদের বসন্ত”-এ। ইউরোপীয়ান ভারসোপোলিস প্রকল্পের আওতায় সেগুলো প্রকাশিত হবে। এই প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্টগুলো মেনে আমি ইউরোপীয়ান কবিদের পাঁচটি কবিতার বই প্রকাশ করবো। বইগুলো মূলভাষার পাশাপাশি ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়ে প্রকাশিত হবে।

সুহৃদ  :  আমি জানি তুমি কবিতার বিভিন্ন সংগঠন/ সংস্থার সাথে জড়িত। তাদের ভেতরে আমার অনুমান তুমি মালার্মে একাডেমিকে উপরের দিকেই রাখবে। একাডেমিতে তোমার আসলে দায়িত্বটা কী? ফ্রান্সে এবং তার বাইরে কবিতার প্রমোশনের ক্ষেত্রে একাডেমি কোন ধরনের কাজ করে থাকে?

লিন্ডা  :  তিন বছর আগে একাডেমির সাধারণ সদস্য হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম আমি। খুব আনন্দ হয়েছিল তখন। গুরুত্বপূর্ণ ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ইন্সটিউশনের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত আমিই বয়সের দিক থেকে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। আর ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে আমি একাডেমির জেনারেল র‌্যাপোর্টিয়ার নির্বাচিত হয়েছি। সেজন্য, এখন শুধু মালার্মে প্রাইজের জুরি হিসেবেই আমার দায়িত্ব শেষ হয় না বরং ফ্রান্স ও তার বাইরে কবিতা নিয়ে বিভিন্ন কাজ দেখাশুনার দায়িত্বও আমার ওপরে বর্তেছে। অনেক প্রকল্প চোখের সামনে ঝুলে আছে। আন্তর্জাতিক পাঠ এবং থিংক-ট্যাঙ্ক কর্মশালা সিরিজ আয়োজনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে কবিতার চারটি ক্রোড়পত্র এবং একটি এন্থোলজি প্রকাশও এইসব প্রকল্পের অংশ।

সুহৃদ  :  তোমার কাছে এ পর্বের শেষ প্রশ্ন। তুমি কি মনে করো শিল্পের একটি ফর্ম হিসেবে পৃথিবীর বর্তমান অবস্থায় কবিতার আর কোনো প্রাসঙ্গিকতা আছে?

লিন্ডা  :  যদি মানুষ না চায় তাদের চোখের পাতা সেলাই হয়ে যাক, যদি না চায় তাদের মুখ ঝালাই করে আটকে দেয়া হোক, যদি তারা না চায় তাদের কানে সিসা ঢেলে দেয়া হোক তাহলে কবিতাকে অবশ্যই প্রাসঙ্গিক রাখতে হবে। এবং  কবিতা এখনো প্রাসঙ্গিকই। বদমতলব-ওয়ালা সমালোচকগণ, যারা কবিতার ধ্বংস হওয়ার খবর রটিয়ে বেড়ান, তাদের সব তৎপরতা সত্ত্বেও মানুষ সেসব খুব একটা কানে নেয় না। আর এতকিছুর পরেও মানবজাতির ইতিহাসে আজকের পৃথিবীতে যত সংখ্যক কবিতার পাঠক আছেন তা কখনো ছিল না।

 

লিন্ডা মারিয়া বারোসএর কবিজীবন : ঘটনাক্রম

১৯৮৮

  • বুখারেস্টের একটি সাহিত্যকাগজে প্রথম কবিতা প্রকাশ। কবির বয়স তখন সাত বছর।

২০০১

  • প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সূর্যাস্ত বহুদূর, ওর ফিতে ছিঁড়ে দাও’-এর প্রকাশ। পৃষ্ঠাসংখ্যা ৭২। প্রকাশক, একাডেমিয়া ওরিয়্টে-ওক্সিডেন্ট, রুমানিয়া।
  • পাশাপাশি চলছে ফরাসিতে কবিতা লেখা। সেসূত্রে প্যারিস-সরবন বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল কমিশন থেকে পোয়েট্রি প্রাইজ অর্জন।

২০০২

  • নাটক ‘হয়বদন এল আমার বাড়ি’। প্রকাশক, মেটা, রুমানিয়া।
  • রুমানিয়ান লেখক ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভ।

২০০৩

  • কাব্যগ্রন্থ ‘বন্য শুয়োরের মাথা-ওয়ালা কবিতা’-এর প্রকাশ। পৃষ্ঠাসংখ্যা ৭২। প্রকাশ ভিনিয়া, রুমানিয়া।
  • নাটক ‘বড়ো অন্তর কখনো তুচ্ছ জিনিস নিয়ে মাথা ঘামায় না’। প্রকাশক, মুজুয়েল লিটেরাটুরি রোমেন, রুমানিয়া।
  • লেখার ভাষা হিসেবে ফরাসিকে প্রথম পছন্দ হিসেবে গ্রহণ। ফরাসিতে কবিতায় পেন্টালজি লেখার সিদ্ধান্ত। এই পেন্টালজি পৃথিবীকে সম্পূর্ণ নতুন এক খোলস-ছাড়ানো মিথ উপহার দেবে।

২০০৪

  • পেন্টালজির প্রথম অংশ ফরাসিতে প্রকাশিত তাঁর প্রথম বই ‘চিহ্ন ও ছায়ার কিতাব’-এর প্রকাশ। পৃষ্ঠাসংখ্যা ৬৪। প্রকাশক, শাইন এদিতুর, ফ্রান্স। এই বইয়ের জন্য পোয়েটিক কলিং প্রাইজ অর্জন। সমালোচক বার্নার্ড পিভোট এই বই নিয়ে লিখলেন, ‘নতুন কবিকে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত’ (লো জুর্নাল দু দিমশ, ৫ নভেম্বর, ২০০৫) আর কবি আলাঁ ভেক্সলার এই বইকে দিলেন ‘ব্যতিক্রমি’র মর্যাদা (ভার্সো, সংখ্যা ১২১, ২০০৫)।

২০০৫

  • সাহিত্য সমালোচনার বই ‘ঘূর্ণির মধ্যে ভ্রমণ; গাই গোফেত-এর গ্রামীণ রান্নাঘরের জন্য প্রশস্তি’- এর প্রকাশ। পৃষ্ঠাসংখ্যা ২৮০। পাশাপাশি একই ঘরানার বই ‘ধ্বংসের নিয়োগ’-এর প্রকাশ। পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৬৪। বইগুলো ফরাসি ভাষায় লেখা হলেও প্রকাশিত হলো রুমানিয়া থেকে। প্রকাশক, মুজেউল লিটেরাটুরি রোমেন।
  • ‘কবিদের বসন্ত’নামে এক কবিতা উৎসবের প্রতিষ্ঠা ও আয়োজন করেন লিন্ডা। এই উৎসব একইসঙ্গে রুমানিয়ার ৬০ টি শহরে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

২০০৬

  • পেন্টালজি-র দ্বিতীয় বই ‘রেজর ব্লেডে তৈরি বাড়ি’-এর প্রকাশ। প্রকাশক, শেইন এদিতুর, ফ্রান্স। লিওনেল রে এই বই উপস্থাপন করতে গিয়ে বলেন, ‘ওস্তাদি গুণসম্পন্ন সাহসী বই; বিস্ময়কর এবং প্রথাবিরোধী। একইসাথে স্বপ্নিল ও ক্ষুরধার’। কবির ব্যাপারে বলেন, ‘অসাধারণ এক কবি’ (আজকের কবিতা, সংখ্যা ৭৯, ২০০৭)। বার্নার্ড মেজো প্রশংসা করে লিখেন, ‘লিন্ডা মারিয়া বারোস সত্যিকারের শিহরণ আর মৌলিকত্ব নিয়ে এসেছেন’ (আজকের কবিতা, সংখ্যা ৮৪, ২০০৭)। আর চার্লস ডোবজিনস্কি মন্তব্য করেন, ‘আজকের ফরাসি কবিতার জন্য (এই বই) একটি ঘটনা’ (আজকের কবিতা, সংখ্যা ৮৫, ২০০৭)।
  • লিন্ডা এই বই বলতে গেলে সম্পূর্ণভাবে পুনর্লিখন করলেন রুমানিয়ান ভাষা। পল আরেটজু সেই বই সম্পর্কে মন্তব্য করেন ‘এক অসাধারণ পরিণতি, নন্দনচিন্তা আর কাঠামো নির্মাণের অসম্ভব জ্ঞান’ (স্কারা দিন বিবলিওতেকা, ফুনদাতিয়া কুলতুরালা ইদিয়া ইউরোপিয়ানা, ২০০৭)। আর গ্যাব্রিয়েল রুসু এই বইয়ের ‘অসাধারণ কাব্যিক ভিশন’-এর ওপর নজর দিতে বললেন পাঠকদের।

২০০৭

  • ‘রেজর ব্লেডে তৈরি বাড়ি’ ফরাসি কবিতার জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার এপোলিনের প্রাইজ পেল। এই পুরস্কারকে ‘কবিতার গোকু’বলা হয়। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে গোকু কথাসাহিত্যের জন্য দেয়া হলেও ফ্রান্সে সাহিত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃত ছিল। ২০১৬ সাল থেকে অবশ্য কবিতার জন্যও এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

২০০৮

  • একই প্রকাশনা থেকে ‘রেজর ব্লেডে তৈরি বাড়ি’-এর পুনর্মুদ্রণ।
  • রুমানিয়ান অনুবাদে বইটির ‘পোয়েট্রি ন্যাশনাল প্রাইজ’ লাভ।

২০০৯

  • পেন্টালজির তৃতীয় অংশ ‘হাইওয়ে অ৪ এবং অন্যান্য কবিতা’-এর প্রকাশ। পৃষ্ঠাসংখ্যা ৮০; প্রকাশক শেইন এদিতুর, ফ্রান্স। এই বই সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে চার্লস ডোবজিনস্কি লিখেন, ‘লিন্ডা রূপককে কালাশনিকভের মতো ব্যবহার করেছেন’ (ইউরোপ, সংখ্যা ৯৬৭-৯৬৮, ২০০৯)।

২০১০

  • ‘রেজর ব্লেডে তৈরি বাড়ি’ বুলগেরিয়ান ভাষায় প্রকাশিত। অনুবাদক আকসিনিয়া মিহাইলোভা। প্রকাশক, দা ফাউন্ডেশন ফর বুলগেরিয়ান লিটারেচার, সোফিয়া।

২০১১

  • এপোলিনের প্রাইজের জুরি হিসেবে নির্বাচিত হলেন লিন্ডা।
  • প্যারিস-সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যে পিএইচডি সম্পন্ন।
  • লাটভিয়ান ভাষায় ‘রেজর ব্লেডে তৈরি বাড়ি’-এর প্রকাশ। অনুবাদক, দাগনিয়া দ্রেইকা। প্রকাশক, দাউগাভা, রিগা।

২০১৩

  • মালার্মে একাডেমিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত।
  • দা রাইটার্স ইউনিয়ন অভ মলদিভা কবিকে ‘গ্রান্ড প্রাইজ অভ পোয়েট্রি নিশিতা স্তায়েনেস্কু’দিয়ে সম্মানিত করে।

২০১৪

  • এপোলিনের প্রাইজের জুরি বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত।
  • কবিতা ও দৃশ্যশিল্পের আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ‘লা ট্রাডুকটিয়ারে’র প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ।
  • ‘হাইওয়ে A 4 এবং অন্যান্য কবিতা’ ডাচ ভাষায় প্রকাশিত। অনুবাদক, এইচ. মিসজকিন। প্রকাশক, পোয়েজিসেন্ট্রাম, জেন্ট, বেলজিয়াম।

২০১৫

  • পেন্টালজির চতুর্থ বই ‘হাড়হীন সাঁতারু; বড়ো শহরের উপকথা’ লিখে শেষ করেন। লেখার জন্য ফ্রান্সের ন্যাশনাল বুক সেন্টার থেকে ক্রিয়েটিভ রাইটিং ফেলোশিপ পেয়েছিলেন।
  • রোমানিয়ান ভাষায় গোটা বইটি পুনর্লিখন করেন। বুখারেস্ট থেকে প্রকাশিত হলো। সমালোচকগণ বইটির ‘চূড়ান্ত মৌলিকত্ব’ (Horia Gârbea, Luceafărul de dimineață, সংখ্যা ৩/২০১৫) এবং ‘বিস্ফোরক ভাষা’(Dan Cristea, Luceafărul de dimineață,, সংখ্যা ৬/২০১৫) নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ।
  • ফরাসি-ইংরেজি কবিতা উৎসবের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ। উৎসবটি প্রতিবছর প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

২০১৬

  • ‘হাড়হীন সাঁতারু; বড়ো শহরের উপকথা’ কাব্যগ্রন্থটি রুমানিয়ান রাইটার্স ইউনিয়নের বুখারেস্ট শাখা কর্তৃক ‘বুক অভ্ দ্যা ইয়ার’ হিসেবে পুরস্কৃত।
  • শিশুতোষ কবিতার ট্রিলজির প্রথম অংশও এবার প্রকাশিত হবে।
  • ‘রেজর ব্লেডে তৈরি বাড়ি’ স্লোভানিয়ান ভাষায় প্রকাশিত। অনুবাদক, বারবারা পোজ্যাশ্চনিক। প্রকাশক, হাইপেরিওন, কোপের।
  • মালার্মে একাডেমির জেনারেল র‌্যাপোর্টিয়ারের দায়িত্ব গ্রহণ।

অন্যান্য প্রকাশনা

  • অঙ্কনশিল্পীদের সাথে যৌথভাবে নয়টি ‘শৈল্পিক বই’প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশক যথাক্রমে এডিশিওনস ট্রান্সিগনাম (প্যারিস) এবং লিভ পভ (সঁ কজমে)।
  • বিভিন্ন বই এবং পত্রিকায় বিজ্ঞান বিষয়ক ১৯ টি প্রবন্ধ।
  • ১৯৯৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত লিন্ডার করা অনুবাদে ৩০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি কবিতা নিয়ে ১০ টি ক্রোড়পত্রও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর অনুবাদে।

অনুবাদ, পাঠ, বক্তৃতা, কন্ফারেন্স

  • লিন্ডা এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৭৪টি উৎসবে এবং ৭০০- এর বেশি কবিতা-পাঠ ও কবিতা বিষয়ক বিতর্ক উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন।
  • বিভিন্ন একাডেমি, কংগ্রেস বা কন্ফারেন্সে তিনি কবিতা নিয়ে ২৩টি বক্তৃতা দিয়েছেন।

অন্যান্য

  • লিন্ডার সাহিত্যকর্ম নিয়ে পাঁচটি টিভি শো।
  • কবিতা নিয়ে আমেরিকা ও পোল্যান্ডে দুটি মাস্টার্স থিসিস হয়েছে।
  • জার্মানি, অস্ট্রিয়া, রুমানিয়া এবং রিপাবলিক অভ মলদিভায় বিভিন্ন মাস্টার্স থিসিসে লিন্ডার কবিতা নিয়ে আলাদা চ্যাপ্টার লেখা হয়েছে।