Home নির্বাচিত লেখা কয়েকটি কবিতা । শাহেদ শাফায়েত ।। কবিতা

কয়েকটি কবিতা । শাহেদ শাফায়েত ।। কবিতা

কয়েকটি কবিতা  ।  শাহেদ শাফায়েত ।। কবিতা
0
0

বই : বালিঘরর ও প্রতিটি ভোরের গান – শাহেদ শাফায়েত / কবিতা / ২০১১, উলুখড়।।

 

ট্রেন

পাথুরেকয়লা রঙ লজ্জা গিলে গিলে

ছুটে ছুটে আসে

ছুটে ছুটে আসে

লৌহশিকল ছিঁড়ে ছিঁড়ে ধাতব রমণী

 

শিকল ছিঁড়ে ছিঁড়ে আবার জড়ায় দুই পায়ে

চুলের জটিল বিনুনি

বীরপত্নী খণ্ডিত রমণী সেই

 

তার মেদ-মজ্জা খেয়ে খেয়ে শেষে

অজস্র তাড়িত পঙ্গপাল

লুটে-পুটে খেয়ে যায় শরীরকাঠামো, তবু

পাগলিনী ধাতব রমণী

ছুটে ছুটে আসে

ছুটে ছুটে আসে

ঝলসিত শহরের বাহুর ভিতর

 

তাড়িত রমণী এমন

পারে তার গুঁজে দিতে ক্ষুধার শরীর

ঝলসিত শহরের বাহুর ভেতর

 

ছাই

এতোটা স্পর্শের কাছে রেখো না তাকে

ওখানে তৃতীয় যুদ্ধের প্রতিশ্রুতি আছে

ঐশ্বর্য আছে, একুশ প্রজাত রমণীর কাম নিয়ে

একবিন্দু সিলিকা আছে, ভবিষ্যতের ঘোড়া

এবং ভিমরুল আছে

ওখানে ঈশ্বর আছে, অণুবীক্ষণ আছে

 

এতোটা স্পর্শের কাছে রেখো না তাকে

ওখানে সমস্ত আত্মার জন্মদিন জ্বেলে

আছে অনার্য মহাকাশ…

ওখানে ঈশ্বর আছে, অণুবীক্ষণ আছে

 

ম্যাজিক চিত্র

সূতা কেটে তার ঘুড়ি উড়ে যায়

ঘুড়ি উড়ে যায় নগরের দিকে

তবু পৃথিবীর চোখের ভেতর হিম;

রাত্রিকে তাই মনে হয় তার চোখ

ঘোলাটে এবং স্বপ্নের ঘোরাফেরা;

ছাদের নিচেও অসংখ্য বিদ্যুৎ, মানুষেরা জানে

কবরের কথকতা। আর ঘাসে ঢাকা

মাটি ও শ্বেতসারে; জমানো প্রাচীন

রূপকথা উঠে আসে; গাঁইতির ঘা’য়ে

দুইপাটি কালো দাঁত, দাঁতে জীবনের

সীমাহীন নীরবতা! সূতাকাটা এক

ঘুড়ির মতোই শিরদাঁড়া কাঁপে লাল

মাংসের কণা দাঁতে কেটেছিল লোহিত পঙ্গপাল।

 

ঘুড়ি উড়ছিল তখনো অসীম নীলে

চোখ ঢাকা ছিল শ্যাওলায় বুদ্বুদে

চলাচল করে কালো ঘোড়াদের কেশরের বিদ্যুৎ

মৃতদের দেহ ন’ড়ে ওঠে এই তূর্যের হাহাকারে?

 

মৃতদের চোখে ফুটে থাকে দুই ভ্রান্ত ফলের আশা

মৃতেরা জানে না কবরের ঘাসে কারা দিয়ে যায় ফুল

ফল আর ছুরি মনে হয় খুব কথা বলে মিহি স্বরে:

‘পৃথিবীর এই টুকরো মাংস ভাগাভাগি করি চলো’—

ছুরি তার মুঠে ধরা; তার বাম হাতে লাল দিন,

বিদ্যুৎ যেই বাড়িয়েছে গলা দৃশ্যকে তুলে নিতে

—পাঁচটি আঙুল খসে যায় দ্রুত প্রাচীন দাঁতের নিচে

আর পৃথিবীর তিন ভাগ ঘুমে বরফের বুকে শাদা

কালো আর নীল মুখোশমুণ্ডু মার্বেলে গড়াগড়ি

গ্যাসোলিন পুড়ে; গ্যাসোলিন ভরা গতি।

 

পার্শ্ব

করো না ভঙ্গ এমন অন্ধকার

তারাহীন জ্বলা প্রতিটি চমৎকার

ভোরপূর্ব চৌদিক মায়াময়

আকাশ ঝরানো নীলাভসবুজ ছায়াময়

 

জানি ফোটে ফুল ঝরার বাসনাহীন

কঠিন প্রাণে তবু তারা দিশাহারা

হয় না গতি ও কালের চাকায় চাকায়

ঠিক জেনে যায় জাগতিক ওরা কারা

 

এসে যায় দিনে রাত্রি যে করে পার

সূর্য ঘনায় অথৈ জলের তলে

ওই সুগভীর কেন্দ্রাচারের গান

চৈ চৈ ডাকে উঁচু উঁচু দুইপাড়

 

ভঙ্গ করো না এমতো অঙ্গীকার

প্রসারিত হোক উজ্জ্বলতর ভোর