Home নির্বাচিত লেখা কয়েকটি কবিতা । সেলিম রেজা নিউটন ।। কবিতা

কয়েকটি কবিতা । সেলিম রেজা নিউটন ।। কবিতা

কয়েকটি কবিতা  ।  সেলিম রেজা নিউটন ।। কবিতা
0
0

বই : পরিস্থিতির বিবরণ – সেলিম রেজা নিউটন / কবিতা /  ২০১৫ / উলুখড়।।

 

স্খলনের শিল্পকলা

শিল্পের ছলাকলা অবশেষে ধরা দিল হাতে।

দিনকতক লাগল বটে,

তবু ঠিকই ধরে ফেললাম হাতেনাতে।

 

হিসু-করা-যন্ত্র নিজে আদরে-তোয়াজে

দণ্ডপ্রাপ্ত হয় যদি পুরুষবিধিতে,

তাতে সে উৎপন্ন করে ঘোলাটে অভ্রের মতো প্রথম অসুখ –

বস্তুর প্রাথমিক বর্ণের মতো।

 

অসুখ নিক্ষিপ্ত হয়

মেঝেতে শোয়ানো কোনো স্ত্রীবাচক খবরের দিকে –

স্টাডির মেঝেতে আরও পিছল করার চেয়ে

সংবাদপত্রকে কাজে লাগানোটা বেশি ভালো বলে;

ইউটিলিটি জার্নালিজম শক্তিশালী হয়ে ওঠে বলে।

 

অসুখ শুকিয়ে গেলে পেশ হয় অভিনব নানাবিধ ভোল,

পরিদৃশ্য হয়ে ওঠে – পরিস্থিতি – পুরুষের অব্যয় আদল,

আর অপরূপ আকার-প্রকার।

 

পুরুষের দরবার বিকশিত হয় শিল্প – স্খলিত শিল্পকলা।

একে তুমি বলতে পারো রিয়েলিটি – বাস্তব-উৎসারিত শিল্পের উৎপাদন রীতি।

 

শিল্পের শিলায় গড়া বাস্তব পুরুষ বলে কথা –

সতত নিরীক্ষাশীল মরদের মন বলে কথা…

 

বালিয়াপুর, রাজশাহী, ২৫শে মাঘ ১৪০৬, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০০০।।

 

প্রতিক্রিয়াশীল পরিস্থিতি

মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়।

যা-কিছুই ঘটে –

আমাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়।

 

বৃষ্টি আমাদের ভালো লাগে।

রোমান্টিক ঋতু।

বৃষ্টির খারাপ দিকও আছে।

সবকিছু স্যাঁতসেঁতে লাগে।

 

বসন্তকালে আমরা বসন্তের ভক্ত হই।

কোকিলের ডাক আমাদের ভালো লাগে।

পাখিটার আবার ঝামেলাও আছে।

নিজে বাসা বানায় না।

অন্যের ঘাড়ে ডিম পাড়ে।

 

কাক আমাদের পছন্দ না।

কর্কশ গলা। বিরক্তিকর।

কাক অবশ্য আমাদের উপকারও করে।

ময়লাটয়লা পরিষ্কার করে।

 

আমরা পরিষ্কার প্রতিক্রিয়া করি না।

তাতে ঝুঁকি থাকে অনেক বেশি।

আমাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসে।

তাতে চাকরি রক্ষা পায়।

ব্যবসা ঘটে।

কার্যোদ্ধার হয়।

 

আমরা সমাজবিপ্লব চাই।

সামাজিক বৈষম্য সত্যিই অন্যায়।

কিন্তু বিপ্লবের খারাপ দিকও আছে।

পার্টির  নিষ্পেষণ চলে।

 

অবশ্য বিপ্লব তো আর এখই হচ্ছে না…

তা ছাড়া, সত্যিকারের বিপ্লবী হওয়া যায়ও না।

 

মোট কথা, সিস্টেমের একেবারে বাইরে যওয়াও ভালো না।

নিদারুণ নৈরাজ্যের বিশৃঙ্খলা ঘটে।

তার চেয়ে রাজা ভালো, রাজ্য-রাষ্ট্র-কুচকাওয়াজ ভালো।

 

আসলে আমরা যতই বলি না কেন,

সিস্টেম কখনও বদলাবে না।

আর, সিস্টেমের সবই তো আর অত খারাপ না।

ভালো দিকও আছে।

ভালো কিছু করার জন্যেও তো ভালো একটা সিস্টেম লাগে –

তাই না?

রাষ্ট্র ছাড়া দেশ চলে নাকি?

 

সবচেয়ে ভালো হলো দ্বিধাটিধা ঝেড়ে ফেলে দেওয়া।

দ্বিধা একটা অসুখের নাম – পদে পদে বিপত্তি ঘটে।

জনপ্রিয় চিকিৎসা হয় আত্মসমর্পণ।

 

আত্মসমর্পণ তাই কবিতারও ভাষা হয়ে ওঠে;

পড়াও তো যায় তাকে – যদি কেউ চায় –

মোড়ে মোড়ে মুদ্রাঙ্কিত থাকে।

 

প-৮৮-এফ: ১৭ই শ্রাবণ ১৮১০, ১লা আগস্ট ২০০৩।।

 

 

চোখের ইশারা

চোখ নিচু করে রাখি –

কখন কীভাবে চোখ কানা হয়ে যায়!

বিভিন্ন শীতল চোখ ‘কুল’ – বিজ্ঞাপনের মতোন

হাসছে ইঙ্গিতে। কিন্তু কে না জানে উনাদের প্রশান্ত প্রয়াসে

অন্ধ হয়ে যেতে পারে গরিবের নিরীহ নয়ন।

নিতান্তই যখন-তখন।

 

অসিতে-মসীতে নব শান দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র গড়াতে লেগেছে:

সাগরের যাবতীয় জলের সমান ভারী সম্মিলিত যৌথতার চাপে

রোহিত কাতলা শিং মহাশোল হাঙ্গর কুম্ভীর

সব বায়ুশূন্য হয়ে, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ডুবে যাবে এইবার;

অবাধ বাতাস-চলাচল

অবাধে খেলাবে ঢেউ সমতল জলের ওপর;

নূহের নৌকার পেটে নিরাপদে স্থান পাবে শুধুমাত্র মোমিন মানুষ।

 

কে মোমিন, কে মিনার, কে জমিন, কে যে যমদূত…

রাষ্ট্র থেকে রাজনীতি কীভাবে আলাদা হতে পারে…

আদারও ব্যাপারী নই, অথচ চিন্তায় আসে বহুদূর সমুদ্রবন্দর…

সওদাগর ও সরকার কে কার পাহারাদার…

কে কার প্রচার-কল, কীসে কে বিকল…

কীসব বিপদ-কথা, মাথার ধকল –

ঈশান-মেঘের মতো চোখের কোণায় কালো রঙ হয়ে যন্ত্রণা জমায়।

 

কবিতার আয়নায় নিচু করে রাখি দুই চোখ,

অন্য কোনো নিচু চোখে চোখাচোখি হতে পারে – এমন আশায়;

সেক্ষেত্রে নীরব চোখে – ইশারায় – বলে যাব: চারপাশ এখনো আমার

চোখের অধীন নয়। তাই চোখ নিচু করে রাখি –

কখন কীভাবে চোখ কানা হয়ে যায়।

 

প-৮৮-এফ রাবি: ২৮শে ফাল্গুন ১৪১৩, ১২ই মার্চ ২০০৭।।