Home নির্বাচিত লেখা গাণ্ডীব, ফেব্রুয়ারি ২০০৫ । তপন বড়ুয়া ।।সম্পাদকীয়

গাণ্ডীব, ফেব্রুয়ারি ২০০৫ । তপন বড়ুয়া ।।সম্পাদকীয়

গাণ্ডীব, ফেব্রুয়ারি ২০০৫ । তপন বড়ুয়া ।।সম্পাদকীয়
0
0

বই : স্বপ্নের সারসেরা [ছোটকাগজ আন্দোলনের ২৫ বছর] / ২০১০, উলুখড়।।

 

“ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়

ওরা কথায় কথায় গুলি চালায়   শিকল পরার ভয় দেখায়”

এক বাঙাল গেছে কোলকাতার বাজারে বেগুন কিনতে। যথারীতি দোকানিকে শুধায় সে— ‘ভাই বাইগনের শ্যার কত?’ দোকানি দাদা তো রেগেমেগে আগুন, বলেন—‘আহা, বাইগন বাইগন, মিষ্টি করে বেগুন বলতে পারো না?’ শুনে বাঙালের উত্তর— ‘এ্যাঁ, এতই যদি মিষ্টি চান, বাইগনরে প্রাণনাথ বইল্যা ডাকতে পারেন না?’ তা, প্রাণনাথের সের কত? গল্পটা সৈয়দ মুজতবা আলীর।

প্রায় ষাট-সত্তর বছর আগে প্রমিতির নামে এই ‘মিষ্টি’  করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো— প্রাদেশিকতার ছোঁয়া বাঁচিয়ে ভাষাকে একটা সর্বজনীন রূপ দেয়ার জন্য।  সে সুযোগে ছড়ি হাতে জেঁকে বসেছিলো নগরের এলিটিজম। ভাষা মিষ্টি হতে হতে সর্বাঙ্গে ছড়ালো তার মরণঘাতী মধুমেহের বিষ। সময়ের স্রোতে এখন বাতাসে ভাসে তার লাশের গন্ধ। সাহিত্যভাষায়ও  ‘ছন্ধোবন্ধনে অধরা মাধুরী’র  আকাশ ধরতে গিয়ে পা হারালো মাটির সংলগ্নতা। আরেকদিকে নতুন সহস্রাব্দে গজিয়ে উঠলো অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা নিয়ে মিডিয়া বাণিজ্য। ছ্যানেলের বাংলা সংবাদবালিকারা অবশ্য নাকী সুরে ঘুচিয়ে দিলো পূর্ব-পশ্চিমের ফারাক! কিন্তু মিডিয়ার হাতে ভাষা হয়ে উঠলো একই সঙ্গে যোগাযোগ বাণিজ্যর পুঁজি এবং দুঃশাসনের শস্ত্র।  একটাই লক্ষ্য— স্বীয় ক্ষমতার প্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠান যা চায়।  নিজেদের সংশ্লেষণ-বিশ্লেষণের কারখানায় তৈরি করতে শুরু করলো এক অদ্ভুত খিচুড়ি ভাষা। ওদের পাচকরা আবার মার্কিনী টোলের পণ্ডিত।  বেত্রদণ্ড হাতে অমোঘ ফতোয়া ছোড়ে— ‘চাই পূর্বদেশের বিশেষ ভাষা, কিন্তু শব্দরাজি ধরতে হবে মধ্যদেশের।’

অত্যাধুনিক কালে সৃষ্টিশীল ভাষার চেহারা পাল্টে যাচ্ছে পশ্চিমী তত্ত্বের চাপে যত না তার চাইতে বেশি অকারণ জোর খাটানোর কারণে। এর নানা বয়ান, নানা ধরন! আমরা চাই না মাটি ছেড়ে কেবল আকাশে উড়ি কিংবা অকারণে মাটিতে গড়াগড়ি খাই। চাই মাটি আর আকাশের মধ্যে রঙধনুর বন্ধন ঘটুক, একটু যাওয়া-আসার পথ থাকুক।

এবার নানা নিরীক্ষার ছাপ নিয়ে তৈরি হয়েছে এবারের রচনাসম্ভার।

‘অল্প লইয়া থাকি তাই মোর যাহা যায় তাহা যায়’

যারা আমাদের সঙ্গে এসেই চলে গেলেন— একটি বাতি জ্বালাই তাদের পথে। চিহ্নিত শত্রু— ঘৃণ্য, তার চাইতেও বেশি ঘৃণ্য ছদ্মবেশী শত্রু।  ও’রা চাকু চালায় গোপনে, অন্ধকারে—কাপুরুষের মতো। নতুন যারা এলেন, তাদের জানাই শুভেচ্ছা।

শুভার্থীদের সবাইকে শুভেচ্ছা।

সম্পাদক: তপন বড়ুয়া, গাণ্ডীব, ফেব্রুয়ারি ২০০৫।।