Home নির্বাচিত লেখা জরুরি রাত্রির প্রবেশিকা । সুুহৃদ শহীদুল্লাহ ।। কবিতা

জরুরি রাত্রির প্রবেশিকা । সুুহৃদ শহীদুল্লাহ ।। কবিতা

জরুরি রাত্রির প্রবেশিকা  ।  সুুহৃদ শহীদুল্লাহ ।। কবিতা
0
0

বই : জলপাই, স্নেহ ও শর্করা / ২০১২/ উলুখড়।।

 

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,

যা কিছু লিখিনা কেন যেন তোমার কথাই বলি

আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,

আজন্ম দাস আমি তাহা আসিতেছি শুনে

ভাইবোন সকলেরে যেন ভালোবাসি,

ভাইয়ের অধিক বোন বোনের অধিক তুমি মার্কেট মাসি

ভালো ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা,

সুশীল, সৈনিক আছে আর এনজিও মেলা

সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে,

ফাঁপা বয়ান জানি উত্তরাধুনিকে

সাবধানে যেন লোভ সামলিয়ে থাকি,

লাভের গুড়েতে নাচি সাথে পিপীলিকা সখী

ঝগড়া না করি যেন কভু কারো সনে,

রয়েছি গ্লোবাল গ্রামে, আর কী চায় ভোলামনে

 

তবু যদি আদেশ করো বলি কিছু উপরিসমাচার

সাথে থাকুন মদন, মোহন সর্বোপরি তর্কালঙ্কার

 

রাত্রি জরুরি হলে কোনো কোনো পুরুষ আধোঘুমে বউকে রেখে ধর্ষিতার

ছবি-ছাপা পত্রিকা হাতে ঢুকে পড়ে বাথরুমে

ধাতুতে ঢেকে ফেলে বাষ্পীয় আত্মার মুখ

তাদের গোপন অসুখের মতো আমি ছড়িয়ে

ছিটিয়ে                  যাচ্ছি             সবখানে          পুলিশবাগানে

 

কয়েকটি জলপাইগাড়ি আমাকে দাঁড় করালো রাস্তার মুখে

কয়েকজন নগরপিতা পালিয়ে যেতে যেতে স্মরণ করিয়ে দিয়ে গেল

জলকর এখনো বাকি

এসবের মানে কী

ঘুমের ভেতর থেকে আমি শুনতে পেলাম শেষ অভিধান পুড়ে শেষ হওয়ার আগে চিৎকার করছে বাংলাবাজারে অথচ আগুন ও আগুনের বাইরে কোনো সেতু-শব্দ নেই বলে ফিরে আসছে দমকলবাহিনী

 

জানি জানি এসব কাহিনি নতুন কিছু নয় ঘুমে কেন জেগে থেকেও কতোজন দেখেছে এসব

 

আমার কথা ছাড়ো—

না ঘুমিয়ে আমি দেখতে পাই না কিছু সেই যে গর্ভের ভেতর থেকে দেখে ফেলা কয়েক জন্মের/পুরুষের পাপ ও পাপস্খলনের আত্মপ্রতারণা তার বাইরে আর কোনো ছায়া বা ছবি নেই পরিবেশসম্মত তবে ঘুমের বাইরে একবার চোখ খুলে দেখেছিলাম প্রধান নগরসেবিকার স্তনের চারপাশে গজিয়ে উঠছে ঘাস আর পরিবেশবাদী সুশীল এনজিও ‘জিয়ো, যুগ যুগ জিয়ো’ বলে তাকে সংবর্ধনা দিচ্ছে, ছবি তুলছে পাঠাচ্ছে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু  জাতিসংঘ থেকে উড়ে আসছে শুভেচ্ছাবার্তা অনলাইনে টেস্টটিউব ফাটিয়ে টেকনো-শিশুও ইউটিউবে দেখে ফেলছে এসব কেবল অজস্র প্রকল্প প্রস্তাবনার নিচে পড়ে খাবি খাচ্ছে সেবিকার দুধের বাচ্চা

 

ভালো থেকো কচি খোকা

ভালো থেকো জন্মের বুড়ো

করেছ ত্যাগ দুধের টান,

হে উন্নয়নপ্রাণ!

এনেছি তাই তোমার তরে

রঙিলা টিনে ভরে দুধসাদা দুধ

কনডেন্সড, গুঁড়ো গুঁড়ো

বড়ো হও কচি খোকা

আরো বড়ো জন্মের বুড়ো

 

কিন্তু সেটাই তো শেষ কথা নয় রাত্রি জরুরি হলে আরো চাই—চাই বুকখোলা  বিবাহপুস্তকের সাথে জন্মনিরোধ বিষয়ক নির্দেশিকা, পরিপত্রের মায়াবী প্রহার, ঠিক প্রহেলিকা নয় তবু তারই মতো সঙ ও বিধান, রাতযোনি ফাটানো তুবড়ি, জাতীয় ভবনের ছাদে, নির্বিবাদে ঐ দ্যাখো ভেসে আসছে মদনকুমার, আগ্নেয়াস্ত্র হাতে, তোমার উত্থান দেখে যেতে চাই এই বেলা, তারপর ঘুমাতে যাবো শান্তিতে, চারিদিকে এতো হল্লা কিসের, স্বপ্নে, দুঃস্বপ্নে আর স্বপ্নদোষে বিছানার চারপাশে কারা এসে গান গাইছে আজ, জাগতে বলছে

যেন সত্যি সত্যি জাগার কথা ছিল আমার

হাঁটার কথা ছিল পা-হারাদের মিছিলে

যেন সত্যি সত্যি আমি

হাঁটতে শিখে গেছি ভালো করে

 

যেন আমি জন্মে মারা গিয়ে জন্মে মারা গিয়ে আবার জন্মেছি

 

সেয়ানা হয়ে

গতির প্রতীক হয়ে

 

দুধ-কলা খাওয়া সাপ হয়ে

 

আর আমার মা-বাপ খোলস পাল্টিয়ে মানুষ হয়েছে

 

মানুষ, মানুষের বাচ্চা আর মানুষের সমাজ সংবর্ধনা

দিচ্ছে ওদের শুধু বোঝা যাচ্ছে না কেন এই সংবর্ধনা

মানুষ হয়ে সাপ জন্ম দিয়েছে বলে নাকি সাপ জন্ম

দিয়ে মানুষ হয়েছে বলে— এ-প্রশ্ন না তুলেই মানুষ

মানুষের বাচ্চা আর মানুষের সমাজ গান গাইছে আর

নাচছে আর নক্শা করছে আর ফাঁদ পাতছে সাপ ধরার

খেলা হবে বাবু! বাচ্চালোগ তালিয়া বাজাও

যদি হাত-পা এখনো খোলা থাকে

খোলা—

 

দ্য শো মাস্ট গো অন!

               জওয়ান!!

 

নেভার মাইন্ড!

অনেকে বলবে অনেক কিছু

                     তড়পাবে

এটাই ব্লাডি  … ব্লাডিসিভিলিয়ান

ডিসিপ্লিন এখনো শিখেনি

তাই আমাদের দায়িত্ব অনেক

চোখ কান খোলা রাখো

দিনে রাতে

জানি ঘুম নেই

             তাই

স্বপ্নও নেই চোখে

(স্বপ্ন! ওফ! দ্যাটস ক্লিশে! শৃঙ্খলাহীন, ক্যাওটিক,

                                           নো নিড)

টার্গেট

শুধু টার্গেট ঠিক রাখো

সিভিলিয়ান হাতগুলো, পাগুলো, বুকপিঠ

তারচেয়েও

             হরিফিক

বুকেপিঠের নির্বোধ শ্লোগান

 

টার্গেট!

টার্গেট!!

জওয়ান!!!

 

দ্য শো মাস্ট গো অন

 

যে দেশে ভাজা মাছ উল্টে খায় তাজা মাছ

ভেজাবেড়ালের অতন্দ্র পাহারায় আর

না-বোকা-না-চালাক গৃহস্থের কাছে চিঠি আসে রাজমাতার—প্রতিরাতে

সেই দেশে বসে আছি আমি তেজপাতা গাছের নিচে গন্ধহীন

অনতিদূর সংক্রামক জলপাইবন থেকে ভেসে আসছে টক-ঝাল আচার-বাতাস

 

তোমাদের ছেলে-মেয়েরা কোথায়

 

বাজার ফেরত তোমাদের দেখি লণ্ঠন জ্বালিয়ে গুনছো খুচরো পয়সা

শৈশবের বাতাসা যেন-বা—বালিশের নিচে পেয়ে যাবে পিঁপড়ের

উপদ্রবহীন মিষ্টিদিন

তখনো বলিনি আমি— বলেছি শুধু মাথা ও মিষ্টির মাঝামাঝি বালিশের

মর্মগান শুনে রাখো এই বেলা

তুলোর নরমকাহিনী থেকে শিমুলের হননলালিমা খুব দূরে নয়

 

তোমাদের ছেলেমেয়েরা কোথায়

 

ফিসফিস শুনতে পাই কারা নাকি টুকে রাখছে নাম

কারা কারা রাস্তায় বেরিয়েছিল আর যারা কখনো বেরোবে না

হাস্যোজ্জ্বল কফির পেয়ালা হাতে তার বসে আছে গোলাকার সুশীল টেবিলে

ওদের মাথার চারিদিকে মাইল মাইল শান্তি-কল্যাণ হয়ে পড়ে আছে

কল্পনা চাকমার দিনলিপি— আঞ্চলিক চোরাটানে কে জানে কখন আগুন

লাগবে আবার আর গোলাকার টেবিল পুড়ে যাবে— তার ছাই উড়ে

এসে পড়বে চলেশ রিছিলের মেয়ের অঙ্কখাতায়—রিছিলের মেয়ের না-পারা

বীজগণিতের পাতায় হাওয়া দিচ্ছে ইকোপার্ক আর যৌথশিশুবাহিনী

ঝুলে ঝুলে দোল খাচ্ছে সেখানে আহ্লাদি শিশুগাছ-ছায়ায়

 

তোমাদের ছেলেমেয়েরা কোথায়

 

মনে হয় একদিন দেখেছি তোমাদের ছেলেমেয়েদের দূর থেকে

ওদের হাতে কি ছিল মারণাস্ত্র কোনো নাকি ছিল ঐশী তারাফল

ওরা এসেছিল খুব দূর থেকে

যেখান থেকে আসতে পারে শুধু পবিত্র আততায়ী আর মুখোশের অনিবার্যতা

অথচ আমার বউ প্রথম দেখাতেই চিনতে পেরেছিল ওদের

 

ওরা এসেছিল যখন তখন আমাদের উঠোন খুঁড়ে আমরা কবর দিচ্ছি

সাতপুরুষের লাশ—সহবাস থেকে উঠে এসে তাতে যোগ দিচ্ছেন তদন্ত সহকারী

আমাদের দিন কি এভাবেই যাবে জনাব

এ-প্রশ্ন করেনি কেউ আমাদের দিক থেকে তবু উত্তর এসেছে উড়ে চ্যানেলে চ্যানেলে

 

আমরাও দেখেছি সেসব কিছু কিছু

আর আমাদের পিছু পিছু দেখেছে

তদন্ত সহকারী

তদন্ত সহকারীর বউ

আর তদন্ত সহকারীর বউয়ের পেটের বাচ্চা

দায়িত্ব বলে কথা

রাত্রি জরুরি হলে দায়িত্ব বেড়ে যায়

তার কথা ছড়াতে হয় জ্ঞানে অজ্ঞানে আর বিজ্ঞাপনে

কবিসভায় সুশীলে টেবিলে মাঠে ঘাটে আর টর্চার সেলে

 

এসবের বাইরে সংগোপনে যারা বুঝতে চায় রাত্রির মানে

যারা বুঝতে চায় জরুরি বানান অভিধান খুঁড়ে নয়—গান-গাওয়া আর

না-গাওয়া তার সুরের বিভাজনে—নির্জনে যারা ঝালিয়ে নিতে চায় জনে জনে যাওয়ার

কথামালা, শ্বাস দীর্ঘ করতে করতে যারা চায় নাভিশ্বাস দিয়ে ছিটকে বেরিয়ে আসুক

আমূল জীবন

 

তাদের কথা তেমন আজ আর বলাই হলো না

 

হয়তো হবে

যদি দেখা পাই তোমাদের ছেলেমেয়ের

যদি ওরা চিনতে পারে আমাকে আর আমাকেও সাথে নেয়

বাঘবন্দী খেলায়—সামাজিক বনে

 

অতটা সামাজিক নই বলে সুশীলা আমার নয়

 

যখন প্রাণ পায় বিবাহপ্রস্তাব— ঘরে ঘরে —

ভোররাতে জাগতে শুরু করে গ্রামীণ কিশোরীদল

আর শহরের রাস্তায় নেমে আসে সামরিক ট্রাক

 

তখন হাঁকডাক ছাড়াই আমি নেমে পড়ি সদর রাস্তায়

 

আমার কোনো সন্ধিপ্রস্তাবনা নেই বলে করুণা প্রশ্নে আমাকে এড়িয়ে চলে তারা

 

অতটা সামাজিক নই বলে সুশীলা আমার নয়

কখনো কখনো  মনে হয় সুশীলার মা কিছুটা আমার

বিশেষত যেসব রাতে সুশীলা ঘুমিয়ে পড়লে আমরা দু’জনে বেরিয়ে পড়ি

আর টহলগাড়ির পেছন পেছন ছুটে খুঁজি সুশীলার বাবার হারানো বোতাম

 

কোনো কোনো রাতে আধো-অন্ধকারে আমার জামার দিকে চেয়ে সুশীলার মা

অবিকল সুশীলার ভঙ্গিতে কী যেন বলতে চায় অথচ বলে না

 

আমরা ফিরে আসি সুশীলা জাগার আগে

 

সুশীলার ঘুমের ভেতর ওড়ে একটাই জামা—সামাজিক—নিখোঁজ বাবার

 

অতটা সামাজিক নই বলে সুশীলা আমার নয়

 

অসামাজিক বয়ানবাগানে আমাদের যৌথঘুম

আমি ও আমার পরিবার ভালোবাসি তার সচিত্র প্রতিবেদন

ঝাপসামুখ

বাকি গেটআপ মেকআপ আলোকিত

 

ঘুমের ভেতরে স্বপ্নতাড়িত কথাগাছ বেয়ে

উঠি মগডালে যেখান থেকে খুব একটা দূরে নয় সূর্যঘড়ি-নির্মাতার

বাড়ি-তার মেজ মেয়ে গড়িয়ে দেয় গন্ধম প্রতিরাতে

সকালে একসাথে খাবো বলে আমরা জমিয়ে রাখি

যদিও ঘুমই ভাঙে না

ফলত আমাদের বিছানা ঘিরে উঁচু হতে থাকে

গন্ধম প্রাচীর—

আমাদের জানার কথা নয় এতকিছু— যদি-না প্রতিভোর নেমে আসে

ঘড়ি-নির্মাতার মেয়ে আর আমাদের চোখের সামনে খুলে ধরে

বাগানের নিবিড় চিত্ররূপ

আমরা ঘুমন্ত আমাদের দেখি ওর হাতে

 

আর আমাদের ঘিরে চক্কর দিতে থাকে অন্ধবাগান প্রহরী, তার পোষাসাপ আর

নিখিল গন্ধমব্যবসায়ী (আসলে ঘড়ি-নির্মাতার প্রতিদ্বন্দ্বী)

 

বিশ্বঘড়ি দিবসে আমরা গাই ভ্রাম্যমাণ চক্ষুশিবিরের উদ্বোধন

ও মন ও দৃশ্যমন সরাসরি দেখ তোমার পুনর্জন্ম

দেখ চলমানদৃশ্যযান আসলে যা তোমার নয়া মাতৃভূমি

তোমাকে জাগতে বলছে দুনিয়াময়,

দিল চাইছে মোর

বলছে ফর্সা হতে, অটুট ও স্বাস্থ্য সতেজ,

দ্যাখো জাগছে কিশোরী দল এক-একজন ব্রহ্মার সমান,

তুমি ম্যাক্স ইম্প্রেশন দাও,

খুঁজে দ্যাখ নিজেকে,

হয়তো চিনতেও পারবে না, মা-মণি যেমন পারে না পর্দায়, দেখাতে হয়

অর্ধেক মাদুলির ছবি, ছেঁড়া ফটোগ্রাফ,

বিজ্ঞাপনের তাড়া থাকলে তড়িঘড়ি জন্মের দাগ

অশেষ তোমার ভাগ,

তুমি ভুল বুঝে নষ্ট করো না নিজেকে

হ্যাভ এ হ্যাপি পিরিয়ড,

মহাকাল মিশিয়ে দাও স্যানিটারি ন্যাপকিনে,

তাকে বেচে দিয়ে আবার কিনে আবার বেচে দিয়ে আবার কিনে বাজার

স্থিতিশীল রাখো, শেয়ার করো না কিছু আর, আমার সাথে তো নয়ই,

আমার দিন কাটে শেয়ার বেচে কিনে আর মানুষের খুচরো বাজারে

আমি শূন্য গুঁড়োদুধের টিনে ভরে আনি মৃত শিশুদের চোখ, তারপর

বিছানায় সাজিয়ে রাখি ঘুমাবার আগে, সকালবেলা বের হই সাথে

নিয়ে, চোখগুলো ব্যবহার করি, চোখ-কান খোলা রাখতে, মনে হচ্ছে

অবিশ্বাস্য, আমিও তেমনি ভেবেছি, কিন্তু একদিন চোখগুলোই চোখে

আঙুল দিয়ে আমাকে দেখিয়ে দিল, শুধু আমি নই, আমার চারপাশে

যারা, তাদের সবারই আছে এমন সব চোখের স্টক, তারপর যেদিকে

তাকাই শুধু চোখ দেখি, বলা ভালো চোখগুলো আমাকে দেখে,

বিরতিহীন, চোখ-কান খোলা রেখে

 

দৃশ্যপাহাড়ের ভেতর ক্রমশ ঢুকে যেতে যেতে দেখলাম একা নই; অনেক চোখের

খোঁজে ক্লান্ত অনেক জীবন; হাজার বছর ধরে তারা হাঁটিতেছে পথ পৃথিবীর পথে

 

খুঁজতে খুঁজতে বহু খোঁজা-খুঁজির গুহা ও ফাঁদে রেখেছি খোঁজ রোজ রোজ

কত জন্ম হয় চোখের—চোখের ভেতরে; কত কত দৃশ্যপট চোখের পর্দা

খেয়েও জন্ম নেয় চোখ হয়ে, দৃশ্যের সারমর্ম হয়ে, শুধু জন্মান্ধ

চোখগুলো জানে কাকে বলে দৃশ্যঅনিশ্চয় দৃশ্যাহত রাতে কারা কারা

জন্মের দোষে ঘোরে মা-মণিদের একান্ত অঞ্চলে, বেদনাবলে কারা

ফিরিয়ে আনে গানে গানে অবিকল্প জন্মঘোর

 

রেখ মা অস্থিমাংসে

ক্লেশে কিম্বা অনায়াসে

 

যখন যেখানে যেমন

 

এত যে বারুদ বিলাপ

ক্ষমা ঘেন্না অভিশাপ

 

প্রকাশ্য এবং গোপন

আমারে করিছে তাড়া

বিভ্রম তোমার ইশারা

 

বলো তবে হারাবো কোথায়

 

আমাদের সামান্য ঘর

অপরিচয়ে জরজর

 

কাঁদে ব্যাটা সেথা বাপের গলায়

 

বুকে বুকে তখন অকস্মাৎ

রক্তে লুপ্ত ফোরাত

 

সহিংস বাড়ায় জলসীমা

 

ইতিহাসে লুপ্ত ভূগোল

একই  জলে ভর্তি বোতল 

 

ঘুরে পিঠে নিয়ে পুবপশ্চিমা

 

ঘুরতে ঘুরতে ফের

যেমত নিয়তি দাসের

 

এসে পড়ি তোমার উঠোনে

 

এবারো চাই না কিছু

কাঁটাতারে ঝুলুক শিশু

 

শুধু রেখ মা

               বাপেরে মনে