Home নির্বাচিত লেখা তিনটি কবিতা । অনুপ চণ্ডাল ।। কবিতা

তিনটি কবিতা । অনুপ চণ্ডাল ।। কবিতা

তিনটি কবিতা  । অনুপ চণ্ডাল ।। কবিতা
0
0

বই : সকলি সমাধিলিপি – অনুপ চণ্ডাল / ২০১৫, উলুখড়।।

 

নিত্য পরব

দ্যাখো কোনো কোনো উৎসবে কারাগার ফটকেও আলোকসজ্জা হয়।

আমাকে কিন্তু তো যেতে হবে এ-সকল সজ্জা যেখানেতে নেই –

যেথা নিত্য পরব:

ভোরের আলোর ডাকে খুপির ভিতরে হাঁসগুলি

অধীর ডাকিছে;

আধো ঘুমের ভিতরে ও-বাড়ির ব্যাপারী বউয়ের মুড়ি ভাজবার

মৃদুধ্বনি ও ঘ্রাণ;

তাহাদের কথা, কলহ-বিবাদ, বিবিধ গালাজ …

 

বধূ যাও – মনবধূ মহান নগরে

চোখে জল এনে।

জলে জলে স্বচ্ছ সজীব হলে চোখ

তারা-ও-আঁধারময় আকাশ দেখা যায়,

অপমৃত কৃষ্ণচূড়ার ডালে বেহুলা জোছনা,

ইরিক্লান্ত চাষার ভূঁইয়ে ফের সরষে-কলাই …

আরো, ভাঙা জানালায় সহসা বাদল বার্ধক্যভুলানী :

কোনো-বা নিবিড় সুক্ষণে বালিকাও উন্মোচিতা –

নির্জন, দীপ্ত মুক্তাদানার দিকে ক্ষণকাল অপলক চাহিবার জ্বালা

ক্রূর বয়ে যাবে :

হায় দেহ, চিতার আগুনের দিকেও চেয়ে দেখো কতটা মোহিনী যৌবনা সে!

 

আয়োজন

রয়েছ বহুকাল কান্নাহীন তাই ক্লিষ্ট।

 

এইসব পুরনো পোশাক, অমহৎ আসবাব,

চিরবন্ধ হাতঘড়ি, বিদ্যুৎ পাখার কিনারে কিনারে জং,

অথবা ছোট্ট হলুদ পাতা ঘুরছে অবিরাম

মাকড়-সুতোয়,

আতার ধূসর গায়ে চৈত্রের লালিমা,

পাখিবুকে সন্ত্রাস জাগাতে কাঠিতে ঝোলানো ছেঁড়া জামা,

কচিশিশু নারিকেল কেটেছে ইঁদুরে তাই অকালে ভূমিতে,

শিশুরা দেখল বেশ হেলিকপ্টার যেহেতু সে

পড়েছে ভেঙে ধানভূঁইয়ে,

কিম্বা দেখ রাস্তায় মাটি দেয় মহিলা মজুর,

ঝড়ে ভাঙা অপতিত ডাল ঝুলে ঝুলে নীরবে শুকোয় …

সকলেই হতে পারে কান্নার নিবিড় প্রেরণা

সুমহান আয়োজন যদি হয়

বিচ্ছেদ ও মৃত্যুর।

 

রয়েছ বহুকাল কান্নাহীন তাই ক্লিষ্ট –

আয়োজন তবে হোক

বিচ্ছেদ ও মৃত্যুর

যেন সবাকার দিকে চেয়ে চেয়ে শুধু কাঁদা যায়

যেন এই জড়দেহ কান্নায় পুনঃপ্রাণিত হয় প্রতিক্ষণ!

 

গোপন নীরব

গোপন নীরব কিছু অপরাধ থাকা ভাল :

হয়ত অলঙ্ঘ্য প্রয়োজনে কবে ঠকায়েছ দু পয়সা কারো,

বিবেচনাহীনা প্রকৃতির ভীষণ ইঙ্গিতে

হয়ত লুব্ধ হয়েছিলে –

সে তোমার সহোদরা কন্যা বা মাতা

অথবা অস্ফুটা –

কী বা আর!

দেখেছ তো ব্যাপ্ত এই চরাচরে কোথাও অপরাধকণা নেই –

শুধু বহুকাল মানুষের দেশে থাকা হলে এইসব মনে হয়।

 

বেশ তবে, গোপন নীরব অপরাধ কিছু থাকো –

হঠাৎ অকারণ কেউ জেগে ওঠো, যেন ঘুম-ভাঙা তারা,

দাও কিছুক্ষণ ধিকি ধিকি জ্বালা আর আলো,

পর আবার হারায়ে যাও …

যদি পারি

মৃদু এই আলোজ্বালা দিয়ে গড়ি পদ দু-একটি যতনে,

শূন্যে ভাসায়ে দি –

স্বীকারোক্তি যেন!

যেন পাপমুক্ত হয়ে নবতর পাপ শোভা পায়

যেন পুনরায় পদ গড়ে শূন্যে ভাসায়ে দেয়া যায়