Home নির্বাচিত লেখা তিনটি কবিতা । সাইদ উজ্জ্বল ।। কবিতা

তিনটি কবিতা । সাইদ উজ্জ্বল ।। কবিতা

তিনটি কবিতা । সাইদ উজ্জ্বল ।। কবিতা
0
0

বই : মম বাক্য ধরো – সাইদ উজ্জল / ২০১৬, উলুখড়।।

 

স্বেচ্ছামৃত্যু থেকে

স্বেচ্ছামৃত্যু থেকে উঠে, ফিরে আসে যে নীল হরিণ

কাঁটার জমিন ছেড়ে গীতল ঘুমের দেশে এসে

সে কেন রহস্যে ভরা স্তব্ধ এক মমি হতে চায়?

ডোরাকাটা বাঘ যেন তার আসন্ন শিকার ভুলে

দাবানল ভালোবেসে গৃহের পতনে হাসে একা।

তবে যে মানুষ গৃহবন্দি, মুখস্থ জীবন নিয়ে

সে কেন বয়ে বেড়ায় নিজের দেহের মরা লাশ

নাকি কফিন বাগানে সন্দেহের যৌথ এই গাছ

বিষ-ফল উস্কে দিয়ে আদমে গন্ধমে সহবাস

ডেকে আনে। অতঃপর হাওয়ার হাতে রাখে হাত।

সে হাত রক্তাক্ত স্নেহে গোলাপের বুকে বাঁধে ডেরা

বিষের কাঁটায় পান করে পরকীয়া ঠোঁটরস।

এভাবে দেখতে গিয়ে সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস

আমাদের ছায়া দিয়ে গাছের পাতারা হলো রিক্ত

ফলে আমরা ভাবছি, মাটির আদর আজ ভুলে

গেছে তার বিবাহবাসর আর কংক্রিট আকাশ।

 

জাদুবাস্তবতা

আজ জেগেছে বন্যপ্রাণ। কাঠবেড়ালীর লাফের সাথে হাসছে বনমোরগের

বিচিত্র ডাক। পাহাড় ঘেরা হ্রদের পানিতে কেউ কেউ দেখছে নিজের

প্রতিবিম্ব। সবাই জানে প্রাণীখেকো বৃক্ষের স্বভাব। তার অব্যক্ত চিৎকার

অনুদিত হয় হায়রোগ্লোফিক্স হরফে। এসব জানার পরও বহুগামী চরিত্রের

বিক্রিয়াকে মেলাতে গিয়ে রাসায়নিক জারে বুদবুদ করছে আমার

শূন্যযাপনের ধ্যান।

যোগব্যায়াম আর ঘুমের মধ্যে চেপে ধরছি নিদ্রাদেবীর মুখ। হাত দু’টি

তখন স্মৃতিসৌধ। ন্যাংটা হয়ে বাদুর ধরতে গিয়ে বুঝেছিলাম কলার

মোচার ভেতর জমে থাকা মধুর মিষ্টতা। ফলে, রক্ত ও মধুর স্বাদ কাঁধে

নিয়েই ঘুরছি।

দমবদ্ধ জীবনের ভেতর লোহার শিক ঢুকিয়ে জাদু দেখাচ্ছে যে অন্ধ

জাদুকর তার চোখে চোখ রেখে বলি, একবার চেয়ে দেখো, ঘ্রাণের চোখ

দিয়ে দেখো কী নির্মমভাবে পুড়ে যাচ্ছে সব জাদুবাস্তবতা।

 

খেরো খাতা

সুনসান নীরব ঘোমটাপরা ঘণ্টাপথ। আলোছায়ার হাডুডু খেলায় মেতেছে

দ্রুতগামী গাড়ির পা। শেষ সুখটান দিয়ে রিকশাওয়ালা ফেলে দিলো

বিড়ির শেষাংশ। কালো জানালায় মোড়ানো দামি গাড়ির ভেতরে

নড়েচড়ে উঠলো ভিআইপি যৌনকর্মী।

রাস্তার বুক আজ উন্মোচিত । বেড়িয়ে এসেছে হাড়। ওভারব্রিজের

উপর সংকলিত কয়েকজন নর-নারী শরীরে উত্তাপ ছড়িয়ে সূর্যকে কাছে

ডাকছে অপার্থিব পবিত্রতায়। প্রতিবন্ধী ভিখারির অর্ধনগ্ন শরীরের রক্ত

সর্তক দৃষ্টিতে পান করছে একদল মশা। পাশেই প্রসববেদনায়

কাতরাচ্ছে একটি কংকালসার মাদি কুকুর। শুকনো রুটির পড়ে থাকা

টুকরোগুলো ঢুকে পড়ছে ওয়াসার ফুটো হয়ে যাওয়া পাইপে।

 

রাতের এসব গম্ভীর দৃশ্য দেখে অন্ধকার হেসে ওঠে। জং ধরা মগজ

গলে পড়ে আমার চেতনায়।

নিজের সাথে খণ্ডচিত্রের অনুষঙ্গ মিলিয়ে নিয়ে তখনও ঘরে ফিরি নি

আমি। অবাধ্য সন্তানের মতো কোথাও হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। অথচ

ভোর হবার আগেই জমা দিতে হবে এই খেরো খাতা। বন্য সম্মোহনে

নিস্তব্ধতার ট্রেনে চড়ে তখন বিদায় জানাই শেষরাত্রি- ভোরের মাকে।