Home নির্বাচিত লেখা মহাপুরুষের জোব্বা ও অন্যান্য । আহমেদ নকীব ।। কবিতা

মহাপুরুষের জোব্বা ও অন্যান্য । আহমেদ নকীব ।। কবিতা

মহাপুরুষের জোব্বা ও অন্যান্য  ।  আহমেদ নকীব ।। কবিতা
0
0

বই : শুরু থেকে সম্প্রতি / ২০০৯ / উলুখড়।।

 

মহাপুরুষের জোব্বা

জোব্বা প্রদর্শনী চলছিলো, মহাপুরুষের জোব্বা; তবে সেই একই দশা; বোঝা গেলো তার একটা হাত লম্বা হয়ে ঢুকে পড়েছে নীতিনির্ধারকের ভূমিকায়; খাটো, মাঝারি, ঢাউস—এ সাইজগুলো ও এতো ভালোবেসে ফেললো যে, একেবারে ঢলাঢলি চুকচুক অবস্থা আর কী। চোখের আশ মেটাতে না মেটাতে, ছানাবড়া! কিছুকিছু জোব্বার নিচে টাকার মূল্য দেয়া আছে। তার পকেটগুলো আগেভাগেই কেটে রাখা হয়েছে; অথচ কেউ কেউ অভিনয় করলো পকেট একদম ফাক্কা। তখন চারদিক ছেয়ে নিদারুণ শীত নেমে এলো; কেমন কাঁপাকাঁপি দশা সবার; তিনি ফিসফিস করে বললেন— আরে ভাই ওটা তো একটা বানোয়াট মূল্য, আপনারা যে যার সাইজ মতো, টাঙানো জোব্বাগুলোয় আগেভাগে ঢুকে পড়ুন, সময় পিছলে যাচ্ছে, আগে শীত নিবারণ করুন।

আমেন!

 

আন্ডারগ্রাউন্ড

কিট্ কিট্ কিট্… একবার উপরে উঠে যাচ্ছে; কিট্ কিট্ কিট্… একবার নিচে নেমে যাচ্ছে ফালিটা; এভাবে ২৪টা শব্দ শেষে এন্টিকাটারের পথ ফুরিয়ে যায়। তখন কী করে তুমি বললে ৯টা, ৭টা বললেও তো পারতে, আসলে সেভেনগিয়র হাতড়ে দেখার অভ্যাস তোমার নেই— এই সামন্ত চাকুর আগা এখনো বুঝতে পারলা না, আর লেখাকে উসকে দিলো যে ছোট্ট যন্ত্র, তার নীল গোড়ার কাছে পৌঁছতে তুমি তো বার বার আছাড় খেয়ে পড়বে; মুর্ছাও গেলেও অস্বাভাবিক কিছু হবে না। সেদিন আমি বুঝতে পারি নাই, লোক দুইজনের মধ্যে একজনের ডিবির ওয়ারলেস অপারেটর, এন্টিকাটার নিয়ে লোমখাড়া হওয়া খোলামেলা আইডিয়াটা তাকে ফিসফিস করে বলতে পারলাম— হুঁ, বুঝলেন, ঐ চেয়ারে বসা হিরো সাহেবের তেলতেলে গালে অথবা রংচঙা পর্দার শেটিনে শুধু একটা ১/২ বৃত্ত পোচ দিলে খুব ভালো লাগতো; অথচ উনি বাহবা দিলেন, অপারেটর ভাই বাহবা দিলেন, কেননা তার চোখ ধোঁয়ার আঁশে আগে থেকেই ভরে গিয়েছিলো! ও সেদিন থেকে চামড়ার হোল্ডারের ভারিক্কি অবস্থাকে তোয়াক্কা না করে পকেটের চিপায়, কথায় কথায় হাতের তালুকে আঁকড়ে ধরে ওটাকে উষ্ণ করে রাখছে।

কিংবা বাঁ হাতের আর্টারিতে একটা হ্যাঁচকা টান দিন— কিট্ কিট্ কিট্… নিচে নেমে যাচ্ছে ফালিটা, ২৪টা শব্দ শেষে

 

মুলাকে তুলাজ্ঞান করিয়া কী যাচ্ছে তাই!

বিস্ময় কাটিলো কি ভাই? এইসব চুমাচুমি আর

পড়তায় পড়ে না! রহস্যের বেড়া দিয়া কী বুনিছো,

কী বুনিলা তুমি মুলাকে তুলাজ্ঞান করে?

 

একগুচ্ছ মূলের ঝুঁটি ধরে বাতাসে ভাসাও তারে

সে যে উড়িবে না, ধুন্ ধুনা ধুন্ ধুন্, সে যে তোশকের

জন্য জন্ম নেয় নাই!

 

ঝুলাইলে তাকে ঝুলতে থাকে থেকে থেকে;

মাঝেমধ্যে মুলা ভেঙে পিস্তলের গোপন শব্দ করিয়া,

ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনতাই হয়ে যায়; আর লাঠির

মাথায় মুলা দুলিয়ে দিলে গাধা ছোটে হোঁতকামুখো

পানে!

 

মুলা কি আহ্লাদিত অমিত ফর্সা ডলার? খাইলে

খিদা লাগে, বমনেচ্ছা জাগছে আমার!

 

জল ও আঠার সমীকরণ

দেখুন, আমাদের টেবিলে নানাবিধ চঞ্চলতা দানা বেঁধে উঠেছে। কেদারা ত্যাগ করার কালে পশ্চাৎদেশ যখন কিছুটা শূন্যে উঠে আসে, লক্ষ্য রাখবেন যেন মাথাগুলি, প্রজ্ঞাতাড়িত মাথাগুলো ঠুকে গিয়ে ফাঁকা শব্দে ভরে না ওঠে! আমাদের অনতিতরুণ বন্ধু অহিদ, বেশি ভাবালুতাসহ হাত নাড়াতে নাড়াতে, আঙুল চোখা করে আগেপিছে দৌড় দেয়; এমনই চক্ষু গোল ওর, নাচিতে নাচিতে পা মাটি হতে আলগা করে পাহাড়ের দিকেই অগ্রসর হয়; তার বাহারি গামবুটের তলা খুলে গেলো শেষমেশ! ‘ব্যোমভোলা মুচি তোমার নিকুচি করি’ এভাবে গাল পেড়ে কী ছিঁড়িবে আর? জল ও আঠা তার কোন হনু, তুমি বুঝবার পার নাই!